নিম্ন-মধ্যবিত্তও ছুটছে বিদেশে,স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার সংকট - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিম্ন-মধ্যবিত্তও ছুটছে বিদেশে,স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার সংকট


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:পেশায় নির্মাণ শ্রমিক পাবনার মো. সোহাগ। বছরচারেক আগে জানতে পারেন স্ত্রী সিমা আক্তার (২৬) জন্মগত হার্টের ছিদ্র (কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ) সমস্যায় ভুগছেন। শুরুতে পাবনা ও ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসককে দেখান। সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।সেখানকার চিকিৎসকরা জানান,অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, সারাজীবন ওষুধ খেতে হবে। সোহাগ জানান,দেশের ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন অস্ত্রোপচার করলে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ফিফটি পার্সেন্ট। অথচ ভারতের ডাক্তাররা বলেছেন, অপারেশনই লাগবে না। এমন বাস্তবতায় দেশের চিকিৎসকদের প্রতি তার আস্থা কমে গেছে। কিন্তু স্ত্রী রাজি না হওয়ায় ভারতের বেঙ্গালুরে নিয়ে যান। সোহাগ এই প্রতিবেদককে জানান, দেশের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর হার্টের ছিদ্র বড় হয়ে গেছে। বন্ধ করার অবস্থায় নেই। ওপেন হার্ট সার্জারি করাতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা অর্ধেক। তখন শ্বশুরবাড়ি থেকে দেওয়া দুই লাখ ও নিজের জমানো দেড় লাখ টাকা নিয়ে ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি প্রতিষ্ঠিত নারায়ণা হেলথ হাসপাতালে যান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক দশক আগেও কেবল বিত্তশালীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতেন। বর্তমানে মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্তদের অনেকেও এ পথে হাঁটছেন। অর্থনৈতিকভাবে ধনী ও ভিআইপি হিসাবে পরিচিতদের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ চিকিৎসা নিতে বাইরে যাচ্ছেন। রোগীরা ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে বেছে নিচ্ছেন।

তালিকায় রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, এমপি-মন্ত্রীরাও : বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার দৌড়ে দেশের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, এমপি-মন্ত্রীসহ অনেকেই এগিয়ে আছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের (২০২৫) ৮ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যান। এক মাস চিকিৎসা শেষে ৯ জুন দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। এর মাস দেড়েক পর ৬ এপ্রিল দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসাবে সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর যান। তার পরের মাসে ৯ মে সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। সেখানে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। এছাড়া ১৯ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়ে ২৪ জুলাই জরুরি প্রয়োজেন দেশে ফেরেন। ২১ জুলাই ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ উন্নত চিকিৎসা নিতে সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ২৪ জুলাই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার হিপ রিপ্লেসমেন্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশে কেবল ভারতেরই ভিসা সেন্টার রয়েছে ১৫টি। এশিয়ার বৃহত্তম ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারটি রাজধানীর প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত। ঢাকায় ভারত ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশের প্রায় শখানেক বিদেশি হাসপাতালের অফিস রয়েছে। এরা বিদেশ থেকে নিয়মিত চিকিৎসক এনে রোগীদের সংশ্লিষ্ট দেশের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাতায়াতের ভিসা প্রসেসিং, থাকা-খাওয়া, ভাষাগত সহায়তাসহ নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করছে।

মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বিদেশি। দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সেবা নেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা; দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা।

সম্প্রতি চীনের গুয়াংজু মর্ডান ক্যানসার হাসপাতালের ঢাকা অফিস পরিদর্শনে আসেন হাসপাতালটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিচালক হি ল্যাং বিং ও অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. উ উই। তারা জানান, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশি রোগীরা চীনের গুয়াংজু মর্ডান ক্যানসার হাসপাতালে যাচ্ছেন। গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ জন ক্যানসার রোগী তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিমালা ছিল। সেখানে বলা ছিল,কেউ বাইরে চিকিৎসা নিতে চাইলে সেটির প্রয়োজন আছে কিনা, কত ডলার খরচ পড়বে, সেই হিসাব-নিকাশ করা হতো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিত। এই নীতিমালার পরিবর্তন হয়েছে। এখন রোগীরা যে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ব্যাংক থেকে ডলার নিতে পারছেন। নিয়মের শিথিলতায় সামান্য রোগব্যাধিতেও বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশিরা ২০১৯ অর্থবছরে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন, ২০২০ অর্থবছরে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন, ২০২১ অর্থবছরে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন এবং ২০২২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য শূন্য দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

কেন যাচ্ছেন : জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, মূলত দেশের চিকিৎসকরা রোগীদের যথেষ্ট সময় দেন না। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ার অভিযোগসহ অন্তত ২১টি কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনেকে আস্থা রাখতে পারছেন না। সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ১৯টিরও বেশি দেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

বছরে বিদেশে চিকিৎসায় ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার : সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ দেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসা করাতে বিদেশে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিবছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশ টাকায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার খরচে। রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠ, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

গত ৫ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের ২২ শতাংশ মানুষের প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্যসেবার মোট খরচের ৭৯ শতাংশই রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে মেটাতে হচ্ছে। গবেষকরা বাংলাদেশের বর্তমান এই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে একটি ‘পশ্চাদগামী’ ব্যবস্থা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান, দেশে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের বাইরে পর্যটক ভিসায় গিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদেশে চিকিৎসা বাবদ প্রকৃত ব্যয় আরও কয়েক গুণ বেশি।

যেসব রোগের চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে : গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ রোগের চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যাচ্ছে মানুষ। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগের চিকিৎসা, যা মোট রোগীর ১৭ শতাংশ। এছাড়া ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী কিডনি রোগের, ১১ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থোপেডিক সার্জারির, ১১ শতাংশ করে লিভার ও ক্যানসার রোগের, ৯ শতাংশ রোগী নিউরোলজি, ৬ শতাংশ রোগী গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজি, ৫ শতাংশ নাক-কান-গলা এবং ৪ শতাংশ করে জেনারেল সার্জারি ও গাইনোকলজি এবং চোখ ও দাঁতের চিকিৎসা করাতে ২ শতাংশ রোগী বিদেশে যাচ্ছে।

বিপিএমসিএ’র সাবেক সভাপতি এম এ মুবিন খান বলেন,স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো এবং মান উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। জটিল রোগ নির্ণয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদির জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে মোট জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (১:৩) বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশেরও কম, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। এত কম বরাদ্দ হওয়ার পরও দেশের স্বাস্থ্য খাত এ অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করতে পারে না।

রমরমা মেডিকেল ট্যুরিজম : জানা গেছে, দেশে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ, ব্যাংকক হাসপাতাল, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল জেনারেল হাসপাতালের রেফারেল অফিস রয়েছে। গুয়াংজু মর্ডান ক্যানসার হাসপাতাল, ফোরটিস হাসপাতাল রেফারেল সেন্টার, ব্রিটিশ চ্যারিটির ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল (সিলেট)সহ বেশকিছু প্রসিদ্ধ হাসপাতালের নামেও বিভাগীয় শহরে সাব অফিস খোলা হয়েছে।

এছাড়া বেঙ্গালুরের কিডওয়াই মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট অব অনকোলজি, শঙ্কর নেত্রালয়, জয়দেব ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি, মালা হসপিটাল, মানিপাল হার্ট ফাউন্ডেশন, চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয় হসপিটাল, অ্যাপোলা হসপিটাল, খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল চেন্নাই, তামিলনাড়ু হসপিটাল, মালারা হসপিটাল, অ্যাপোলো ক্যানসার হাসপাতাল, দিল্লির ইসকট হার্ট ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসোর্স ক্লিনিক, রাম মনোহার লহিয়া হসপিটাল, ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট দিল্লি গোবিন্দ বালাপথ হসপিটাল, বেত্রা হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল রিসোর্স সেন্টার, মুম্বাইয়ের মুম্বাই হসপিটাল অ্যান্ড মেডিকেল রিসোর্স সেন্টার, পিডি হিন্দুজা, টাটা মেমোরিয়াল প্রভৃতি হাসপাতালের দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা এ দেশের কিছু চিকিৎসক ও হাসপাতালের যোগসাজশে স্বল্পমূল্যে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাসে রোগী ভাগাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে রোগী দেখা ও ভিসা প্রসেসিং, এয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তারা।

মেডিকেল ট্যুরিস্টদের লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক হাসপাতাল চেইনগুলো এ দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। হাসপাতাল চেইনগুলোর মধ্যে অ্যাপোলো, এভারকেয়ার, জাপানের গ্রিন হসপিটাল সাপ্লাই ও থাইল্যান্ডের থনবুরি হেলথকেয়ার গ্রুপের মতো হাসপাতাল চেইনগুলো এগিয়ে আসছে।

ঢাকাস্থ ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,বাংলাদেশি মেডিকেল ট্যুরিস্টরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় যায় ভারতে। ২০২২ সালে ভারত সরকার ১২ লাখ বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ মেডিকেল ভিসা।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত বলেন, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারের কাছে নেই। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা কমবে। কারণ বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া শুধু চিকিৎসা ব্যয় নয়, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও স্বজনদের অতিরিক্ত খরচেরও বড় বোঝা তৈরি করে। তাই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নই বিদেশমুখী চিকিৎসানির্ভরতা কমানোর প্রধান উপায়।

Top