ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় কুরআন - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় কুরআন


বিশেষ প্রতিনিধি:ঘরে ঘরে ফিতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে পড়ছে। ফিতনা-ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকতে হলে কুরআনকে আঁকড়ে ধরতে হবে। ফিতনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় কুরআন। কুরআনকে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে। ভালো সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুরআনের তালিম গ্রহণ করতে হবে। স্বস্তি ও শান্তি দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। দুনিয়ার মায়ায় আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যাবে না। ঘরে ঘরে কুরআনের তেলাওয়াত কায়েম করতে হবে।বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান গতকাল শুক্রবার জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, ‘নবী (সা.) বলেছেন, সব রোগের শিফা হচ্ছে পবিত্র কুরআন। কুরআন তেলাওয়াত শুনলে ঈমানি চেতনা বৃদ্ধি পায়। নামাজ কুরআন শুদ্ধভাবে পড়ার আগ্রহ থাকতে হবে। আল্লাহকে ভালোবাসতে সন্তান সম্পদ যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আল্লাহর রাস্তায় দান-ছদকা করতে হবে।’ ঢাকা দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গণি গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করে তাদের ভেতরে দুটি প্রধান বিষয় দিয়েছেন ‘নফস’ বা প্রবৃত্তি এবং ‘ক্বলব’ বা অন্তর। আধ্যাত্মিক উন্নতির ওপর ভিত্তি করে কুরআনে নফসের প্রধানত ৬টি স্তর বা অবস্থার কথা বলা হয়েছে। মন্দ কাজের নির্দেশদাতা ‘নফসে আম্মারাহ’ থেকে শুরু করে আল্লাহর ভয়ে লজ্জিত ‘নফসে লাওয়ামাহ’ এবং আল্লাহর ইলহামপ্রাপ্ত ‘নফসে মুলহিমাহ’। তবে নফসের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান স্তর হলো ‘নফসে মুতমাইন্নাহ’ (প্রশান্ত আত্মা), যার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং সেও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মরুভূমিতে পড়ে থাকা একটি পাখির পালকের মতো আমাদের এই অন্তর বাতাস দ্বারা প্রতিনিয়ত ওলট-পালট হয়। ফিতনার আকর্ষণে মানুষের অন্তর মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়Ñ আল-ক্বলবুল বাইদা (শ্বেত বা পরিচ্ছন্ন অন্তর) এবং আল-ক্বলবুস সাওদা (কালো বা কলুষিত অন্তর)। খতিব বলেন, কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, পুণ্যবানদের শ্বেত বা ভালো অন্তরগুলোর কিছু চমৎকার গুণ রয়েছে। যেমনÑ আল্লাহর স্মরণে প্রশান্ত হওয়া অন্তর (ক্বলবে মুতমাইন্নাহ), হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত সুস্থ অন্তর (ক্বলবে সালিম), আল্লাহর দিকে ধাবিত অনুতপ্ত অন্তর (ক্বলবে মুনিব), আল্লাহর ভয়ে কম্পিত অন্তর (ক্বলবে ওয়াজিলাহ) এবং বিন¤্র অন্তর (ক্বলবে মুখবিতাহ)। বিপরীতে পাপাচারের কারণে মানুষের অন্তর যখন কালো ও অন্ধকার হয়ে যায়, তখন সেখানে মারাত্মক ব্যাধি বাসা বাঁধে। কুরআন আমাদের সাবধান করেছে সাত প্রকার কলুষিত অন্তর থেকেÑ রূঢ় ও কঠোর অন্তর (ক্বলবে গালিজ), সত্য থেকে বিচ্যুত বক্র অন্তর (ক্বলবে যায়েগ), আল্লাহর স্মরণবিমুখ উদাসীন অন্তর (ক্বলবে গাফিলাহ), পাথরের মতো শক্ত অন্তর (ক্বলবে কাসিয়াহ), কুফরিতে আবৃত অন্তর (ক্বলবে গুলাফ), মোহর মারা হেদায়াতহীন অন্তর (ক্বলবে মাখতুম) এবং মুনাফিকি ও কুপ্রবৃত্তির রোগে আক্রান্ত ব্যাধিগ্রস্ত অন্তর (ক্বলবে মারিয)। তাই আসুন, অন্তরের এই ভয়াবহ ব্যাধিগুলো থেকে বাঁচতে আমরা সর্বদা আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সেই বিখ্যাত দু’আটি বেশি বেশি পাঠ করি ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের অন্তরগুলোকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।’ আল্লাহ আমাদের সবাইকে একটি ‘ক্বলবে সালিম বা সুস্থ’-স্বচ্ছ অন্তরের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস হাফেজ মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলামী সমাজব্যবস্থায় পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি আদর্শ ও সুখী পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সদ্ভাব, অধিকার সচেতনতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মান্য করার কোনো বিকল্প নেই।

খুতবার শুরুতে স্ত্রীর সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে বসবাস করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। খতিব বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্বামীদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, পবিত্র কুরআন (সূরা নিসা : ১৯) : আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো। আর যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছো, আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন।খতিব আরো বলেন, স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণের বিষয়টি কেবল কুরআনের নির্দেশই নয়, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও আদর্শ দ্বারাও প্রমাণিত। এ প্রসঙ্গে আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিস উল্লেখ করে খতিব বলেনÑ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে সেই ভালো, যে তার পরিবারের নিকট ভালো। আর আমি আমার পরিবারের নিকট তোমাদের চাইতে উত্তম। আর তোমাদের কোনো সঙ্গী মৃত্যুবরণ করলে তার সমালোচনা পরিত্যাগ করো। খতিব আরো বলেন, পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা প্রত্যেক গৃহকর্তার প্রধান দায়িত্ব।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, পবিত্র কুরআন (সূরা তাহরিম : ৬) ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন হতে বাঁচাও, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যেখানে রয়েছে নির্মম ও কঠোর ফেরেশতাকূল, আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন তারা সে ব্যাপারে তাঁর অবাধ্য হয় না। আর তারা তা-ই করে, যা তাদের আদেশ করা হয়।’ এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর হযরত উমর ফারুক (রা:) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমরা নিজেদের রক্ষা করার বিষয়টা তো বুঝলাম, কিন্তু পরিবারকে কীভাবে রক্ষা করব? খতিব বলেন, নবীজি (সা.) এর উত্তরে সুন্দর দুটি পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে পরিবারকে বিরত রাখো। আল্লাহ যা আদেশ করেছেন, পরিবারকে তা করার আদেশ করো। স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের পাশাপাশি একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা বিধানের তাগিদ দিয়ে খতিব বলেন, ইসলাম ইনসাফের ধর্ম। যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক বিবাহ করে, তবে তাকে অবশ্যই সমতা রক্ষা করতে হবে। হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী থাকবে এবং একজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়বে, সে কিয়ামত দিন এই অবস্থায় উঠবে, তার শরীরের একপাশ একদিকের ঝুঁকে থাকবে।’ খুতবার শেষাংশে খতিব স্বামীদের স্ত্রীদের ভুলত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান। খতিব বলেন, কোনো মুমিন পুরুষ যেন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ না করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না। কেননা, তার কোনো আচরণে অসন্তুষ্ট হলেও অন্য কোনো আচরণে সে সন্তুষ্ট হবে।

Top