বেনামি ঋণ ১৩১৬৬ কোটি টাকা, - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি দুর্নীতির ‘ওএলএম’ সিন্ডিকেট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি দপ্তরে রাতভর চলে অনৈতিক কারবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে পাচারের অর্থ উদ্ধারে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে হোঁচট বেনামি ঋণ ১৩১৬৬ কোটি টাকা, গুপ্ত হয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করা বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা নুরুল আমিন দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এমন ক... ববিতে অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ৫ ঘণ্টা র‌্যাগিং প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন,প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা

বেনামি ঋণ ১৩১৬৬ কোটি টাকা,


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:গত ১৫ বছরে এই ঋণ নেওয়া হয়েছে।ঋণ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই নির্মাণ, আবাসন, ট্রেডিং ও প্রকৌশল খাতের।ভুয়া নাম ব্যবহার করে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠান।এর মধ্যে ফান্ডেড (নগদ) ঋণ ১২ হাজার ১৬৬ কোটি এবং নন-ফান্ডেড (এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টি) ঋণ ১ হাজার ২০ কোটি টাকা।এসব ঋণকে বেনামি বলা হয়। বর্তমানে এর পুরোটাই খেলাপি।এর সঙ্গে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকের বিশেষ অডিট রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে-একই ব্যাংক থেকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন নাসা গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আবার জয়নুল হক সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এই ঋণের পুরোটাই খেলাপি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের ঋণ পুরো আর্থিক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী শনিবারবলেন,এ ধরনের ঋণ দেশের অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ। কারণ, এই বেনামি ঋণের ফলে পুরো ব্যাংক খাত ঝুঁকিতে পড়েছে।আর্থিক খাত নিয়ে গ্রাহকের আস্থাহীনতা বেড়েছে।তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ঋণখেলাপির অনেক তথ্য বেড়িয়েছে। কিন্তু সালমান এফ রহমানের এই তথ্য প্রকাশ হয়নি। এমনকি সংসদে অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপির যে তথ্য দিয়েছেন, সেখানেও এ ধরনের ঋণখেলাপির তথ্য নেই। এর কারণ, সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাননি।

তৌফিক আহমদ বলেন,বাংলাদেশ ব্যাংকও এই বেনামি ঋণের দায় এড়াতে পারে না।কারণ, তারা হেড অফিসসহ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা প্রায়ই অডিট করেছে। কিন্তু এসব অডিটে কেন এই বেনামি ঋণ ধরা পড়ল না। তার মতে, গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন,কোনো ব্যাংকে বেনামি ঋণ চিহ্নিত হওয়ার মানে হলো ওই ঋণ সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। কারণ, সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া হলে তা আর বেনামি থাকার কথা নয়। তিনি বলেন, নিয়ম অনুসারে এ ধরনের ঋণের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানানো হয়। অর্থাৎ কেন এই ঋণ তৈরি হলো, এর সঙ্গে কারা জড়িত-এ ব্যাপারে ব্যাংকের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যাপারে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের কথা ভাবছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে আমি কিছু বলতে পারছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি নয়।

আইএফআইসি ব্যাংকের মালিকানায় ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। দীর্ঘদিন ব্যাংকটিতে অনিয়ম চলছিল। কিন্তু সালমান এফ রহমান সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তার ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিশেষ অডিট করতেও সাহস পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়মিত অডিটে কোনো সমস্যা ধরা পড়লেও তা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে ব্যাংকটিতে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয় নতুন পরিচালনা পর্ষদ। এরপর বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। নিরীক্ষকরা দীর্ঘদিন কাজ করে প্রতিবেদন জমা দেয়।এছাড়াও ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর আইএফআইসি ব্যাংকের করপোরেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ই-মেইলে দুটি গোপন নথি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। সেখানে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণের অবস্থান তুলে ধরা হয়। নথি অনুযায়ী ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর টাউনশিপ। প্রতিষ্ঠানটির ঋণের স্থিতি ১ হাজার ২৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নামে শেয়ারবাজারেও বড় কেলেঙ্কারি রয়েছে।

বেনামি ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আসাদ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। এ প্রতিষ্ঠানের ঋণ ৭৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরপর যথাক্রমে রয়েছে গ্লোয়িং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ, কুইক রিয়েল এস্টেট ৬৮৫ কোটি ৪২ লাখ, সানস্টার বিজনেস ৬৭৪ কোটি ৫৫ লাখ, ফারইস্ট বিজনেস ৬৭৪ কোটি ৪৯ লাখ, কসমস কমোডিটিজ ৬৭২ কোটি ২০ লাখ, ব্লুমুন ট্রেডিং ৬৬৬ কোটি ৩৯ লাখ, আলফা এন্টারপ্রাইজ ৬৫৫ কোটি ১৪ লাখ, অ্যাক্সিস বিজনেস ৬৪৪ কোটি ২৪ লাখ, এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজ ৬০৫ কোটি ২৮ লাখ, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল ৬০৪ কোটি ৭০ লাখ, ভিস্তা ইন্টারন্যাশনাল ৫২১ কোটি ৩ লাখ এবং অ্যাবসোলিউট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৫০৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেগুলো হলো-সার্ভ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৯৬ কোটি ৩ লাখ, অলট্রন ট্রেডিং ৪৯৫ কোটি ৬৯ লাখ, নর্থস্টোন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ, টিমবিল্ড কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ, সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিংস ৪৪২ কোটি ৫১ লাখ, সৃষ্টি রিয়েল এস্টেট ৪১৮ কোটি ২৭ লাখ, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন ৪১৫ কোটি ৮৩ লাখ, গ্লোবাল এলপিজি ৩৭১ কোটি ২৯ লাখ, এলহাম ফ্যাশন ৩৫৮ কোটি ৯৩ লাখ, রাজ হাউজিং ৩৫৮ কোটি ৩২ লাখ, ব্রাইটস্টার বিজনেস ৩০৫ কোটি ২৩ লাখ, সেন্ট্রাল হাইটস ঢাকা ১৬১ কোটি ৬১ লাখ, নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ ৩০ কোটি এবং এলহাম ইন্টারন্যাশনালের ৯ কোটি টাকা।

নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অধিকাংশ ঋণের ক্ষেত্রেই পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে একাধিকবার নবায়ন করা, মেয়াদ বৃদ্ধি, পুনঃতফসিল ও পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।কয়েকটি ঋণ আবার নতুন অনুমোদনও পেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করা হয়েছে। এতে আরও দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব ঋণই করপোরেট শাখা থেকে বিতরণ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভার নম্বর, অনুমোদনের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকৃত ঋণগ্রহীতার পরিচয় গোপন রেখে আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, ভুয়া কোম্পানি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে। কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ছিল একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে।

সূত্র বলছে, এই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানির আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় জামানত নেই, কাগজপত্র ভুয়া এবং নিজ ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার যে সীমা আছে, তাও মানা হয়নি। এছাড়াও সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট (একজন গ্রাহক ব্যাংকের মূলধনের কত শতাংশ ঋণ নিতে পারবে সেই সীমা) লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়েছে।ঋণ নিয়ে এই জালিয়াতির বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যাখ্যা জানতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মোস্তফার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এরপর কল করার কারণ এবং প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু উল্লেখ করে তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। খুদে বার্তা দেখলে বা সিন করলেও তিনি জবাব দেননি। রিপোর্ট প্রকাশের আগে শনিবারও তাকে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু সাড়া মেলেনি।

ব্যাংকের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১১ বছর আইএফআইসি ব্যাংকে কাজ করছেন মনসুর মোস্তফা। ২০২৪ সালের ১৩ মে তিনি এমডির দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি একই ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও হেড অব ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশন, চিফ ক্রেডিট অফিসার (প্রধান ঋণ কর্মকর্তা), চিফ রিস্ক অফিসার ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নথিতে উল্লেখ আছে, তিনি ২০১৫ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকে যোগদান করেন। একই ব্যাংক থেকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের মালিকানাধীন নাসা গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। আবার জয়নুল হক সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এই ঋণের পুরোটাই খেলাপি। এ দুই গ্রুপেরই ব্যাংকের মালিকানা রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের মালিক নাসা গ্রুপ এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিক সিকদার গ্রুপ। আবার ওই ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছেন সালমান এফ রহমান। অর্থাৎ মিলেমিশে ঋণ ভাগাভাগি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের স্থিতি ১৮ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি। আলোচ্য সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণ ছিল ৪৪ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে ব্যাংকটির মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ খেলাপি। এর অর্থ হলো, আইএফআইসি ব্যাংকের মোট যে খেলাপি রয়েছে, এর প্রায় অর্ধেক সালমান এফ রহমানের বেনামি প্রতিষ্ঠানের। অন্যদিকে নিজের নামে সালমান এফ রহমান বৈধভাবে যে ঋণ নিয়েছে, তা যোগ করলে ব্যাংকের মোট ঋণের বড় অংশই সালমানের দখলে। এর ফলে ব্যাংকটি রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু এই ব্যাংক নয়, আরও অনেক ব্যাংকেই বেনামি ঋণ আছে। আর বর্তমানে বেনামি ঋণ আর্থিক খাতের অন্যতম বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ভুয়া প্রতিষ্ঠান, প্রক্সি পরিচালক এবং নিয়ন্ত্রকসংস্থার দুর্বল তদারকির সুযোগে গত ১৫ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বেনামে ঋণ নেওয়া হয়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি। এর ফলে আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েছে।

Top