বরিশালে হাতপাখার চাইতে দাড়িপাল্লা'ই বেশি জনপ্রিয় - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ঝুঁঁকিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ জামায়াত এমপি আব্দুল বাতেনের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সুপারিশের’ বিড়ম্বনায় ফায়ার সার্ভিস কর্তারা,নিয়োগে সব ধাপে কড়াকড়ি ফারুকের উত্থান শ্রমিক দল করার মাধ্যমে,আবারও বেপরোয়া কাইল্লা ফারুক অস্থিরতার বছরে অর্থ পাচার বাড়ে,পাচার বন্ধে আইন আছে প্রয়োগ নেই ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি,প্রশাসনে বড় রদবদল ২০২৪ সালের আত্মত্যাগই ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা,আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

বরিশালে হাতপাখার চাইতে দাড়িপাল্লা’ই বেশি জনপ্রিয়


বরিশালে হাতপাখার চাইতে দাড়িপাল্লা’ই বেশি জনপ্রিয়।

বরিশাল-৫ সংসদীয় আসনে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও সাধারণ জনমত জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, হাতপাখা প্রতীকের তুলনায় দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি আস্থাশীল, নির্যাতিত ও নীতিগত রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বরিশালের মানুষদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতি, সাংগঠনিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে এই আসনের জন্য একজন শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট, অতীত ভূমিকা পরিচ্ছন্ন এবং জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের,যা তাকে মানুষের কাছে আস্থার জায়গায় নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দলটির নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করিম একজন জনপ্রিয় বক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও, বরিশাল-৫ আসনের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে তাদের পছন্দের তালিকায় রাখতে পারছেন না।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। অনেকেই অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখন তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে প্রশ্নের বাইরে ছিল। জনসাধারণের একটি অংশ মনে করেন, সে সময় তিনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতামূলক অবস্থানে ছিলেন।
এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পুরোনো ভিডিও ও বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কিছু বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ ও সচেতন মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আবার অনলাইন ভিডিওতে তার বক্তব্য ও আচরণে মুরুব্বি প্রতি অসম্মানজনক ভঙ্গি দেখা গেছে এবং শেখ মুজিবকে অলি-আল্লাহ, সুফি দরবেশের বংশধর বলতে শুনা গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে,যা বরিশালের রক্ষণশীল সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই সব কারণ মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার মনে করছেন, শুধু বক্তৃতার জনপ্রিয়তা নয়, বরং ত্যাগ, নির্ভরযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্টতাই একজন সংসদ সদস্যের মূল যোগ্যতা। সে বিবেচনায় মুফতি ফয়জুল করিমের তুলনায় এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালই তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাশিত প্রার্থী।
সব মিলিয়ে বর্তমান জনমত ও মাঠপর্যায়ের আলোচনায় বরিশাল-৫ আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীক ও এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালের দিকেই জনগণের আস্থা ও সমর্থন বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে,যা আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Top