অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পেটানো সেই সোহাগ গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক:পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে হত্যা চেষ্টা, মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মো. সোহাগ মৃধা (৩৫) মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিকেলে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তর ঝাটিবুনিয়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাদী সারমিন সুলতানার স্বামী শাহরিয়ার আহম্মেদকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে এনে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোহাগ মৃধা তার হাতে থাকা দা দিয়ে শাহরিয়ার আহম্মেদকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সারমিন সুলতানা ও মাহিনুর বেগমও হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় মাহিনুর বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তাছাড়া আহত মাহিনুর বেগম দাবি করেন, তিনি চার মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন। তাকে মারধরের কারনে তার গর্ভপাত হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে মারামারি, পর্নোগ্রাফি, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তাকে মির্জাগঞ্জ থানার হত্যা চেষ্টা, মারধর, ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির মামলাসহ একটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ও নারী-শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সোহগ মৃধা গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা দেয়। মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা বলেন, সোহাগ একজন মাদক কারবারী ও চাঁদাবাজ। সে সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। এতে সরকারেরও বদনাম হচ্ছে। তার সাঙ্গপাঙ্গদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।