স্বৈরাচারের দোসরদের সিন্ডিকেট রাজত্ব,শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়,ক্ষমতার দাপট,অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান,দুদকের অভিযোগ পরিসমাপ্তি আগামীকাল আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফখরুলের শূন্যস্থান পূরণে বিএনপিতে আলোচনায় তিন নাম সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সমালোচনায় জামায়াত রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা স্বৈরাচারের দোসরদের সিন্ডিকেট রাজত্ব,শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়,ক্ষমতার দাপট,অতিরিক্ত পরিচালক... বরিশাল রেঞ্জের নতুন ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার তিন সন্দেহে বরিশালে মাঠে পুলিশ, হেমায়েতপুরে জেএমবির আস্তানায় অভিযান রাজধানী থেকে সরছে না বাস টার্মিনাল,প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও

স্বৈরাচারের দোসরদের সিন্ডিকেট রাজত্ব,শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়,ক্ষমতার দাপট,অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের


এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া:নৌ-সংরক্ষণ বিভাগে স্বৈরাচারের দোসর সিন্ডিকেট রাজত্ব।অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়।ক্ষমতার দাপট, জাল-জালিয়াতি, ভুয়া বিল-ভাউচার আর অদৃশ্য সিন্ডিকেটের জোরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগকে কার্যত ব্যক্তিগত সম্পদের কারখানায় পরিণত করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।
​পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। সম্প্রতি তাঁকে বরিশালের ‘ডিইপিটিসি’তে প্রিন্সিপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সংস্থাটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নিজের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

​উদ্ধারকারী জাহাজের তেল চুরি ও ভুয়া বিলের মহা-উৎসব ​বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা দপ্তরের সূত্রমতে, আড়াইশত টন উত্তোলন ক্ষমতার উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ নারায়ণগঞ্জের ৫ নম্বর ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে অলস বসে থাকলেও, কাগজে-কলমে সেটিকে সচল দেখিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার ভুয়া জ্বালানি তেল খরচের বিল উত্তোলন করা হয়েছে (উল্লেখ্য, অন্য জাহাজ ‘নির্ভীক’ বর্তমানে বরিশাল থেকে পরিচালিত হয়)।
​দুদকের অনুসন্ধানেও নারায়ণগঞ্জের কার্যালয়ের নথিপত্রে এই জ্বালানি খরচের ব্যাপক গরমিল ও হরিলুটের প্রমাণ মিলেছে।

নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ও সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির চিত্র:বিআইডব্লিউটিএ-এর আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের আওতায় আমদানিকৃত বয়া-বিকন বাতির খাতের টাকা আত্মসাৎ করতে রহিম তার অনুগত ঠিকাদার ‘বাহার’-এর সাথে যৌথ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বহিরাগতদের বাদ দিয়ে শুধু এই সিন্ডিকেটের মালিকানাধীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

ভুয়া বিল বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য:
​আখি এন্টারপ্রাইজ: টিপি-১৩৫ এর ভুয়া বিলে আত্মসাৎ ৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
​তানিয়া এন্টারপ্রাইজ: এমপি-১২ এর ভুয়া বিলে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্পিড বোট-১ মেরামতের নামে ৮ লাখ ৮১ হাজার ১০০ টাকা।

তানজিল ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস: টিপি-৮০ এর ভুয়া বিলে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৫২ টাকা এবং টিপি-১৭৩ এর নামে ৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

আলিফ এন্টারপ্রাইজ: টিপি-৪৫ এর ভুয়া বিলে আত্মসাৎ ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ টাকা।
​ভুয়া বিল-ভাউচার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে ঢাকা, সাভার এবং নিজ জেলা পাবনায় অঢেল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন আব্দুর রহিম:

★উত্তর মুগদা (ঢাকা)
‘আলিফ গার্ডেন’ (৫৮/৩০/গ)-এ ২টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট এবং ঝিলপাড় রোডের ৫৪ নং বাড়িতে ২টি আলিশান ফ্ল্যাট। ৫ কোটি টাকা

★কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
ফতুল্লা লঞ্চঘাটের বিপরীতে ঠিকাদার বাহারের সাথে যৌথ মালিকানায় তৈরি বিশালাকার ডকইয়ার্ড। ১০০ কোটি টাকা

★আশুলিয়া (ঢাকা)
ইসলামনগর (আরএস দাগ-১৮৩৩) ১০ কাঠা জমিতে আব্দুর রহিম ও লিমা তাবাসসুমের নামে ৫ তলা ভবন।
২০ কোটি টাকা

★সাভার (ঢাকা)
কাঠগড়ায় ৪ ইউনিটের ৭ তলা ভবন এবং সাভার বাজারের অন্ধ মার্কেটের ২য় তলায় ২টি দোকান।
২০+ কোটি টাকা

★মোহাম্মদপুর (ঢাকা)
হাউজিং এলাকায় ৬ শতাংশের মূল্যবান জমি।
৭ কোটি টাকা অন্যান্য আবাসিক এলাকা
রামপুরা ও হাতিরপুলে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি; ঢাকা ও সাভারে নিজ ও বেনামে একাধিক প্লট। কোটি কোটি টাকা

★গ্রামের বাড়ি (পাবনা)
শক্তির দাপট দেখিয়ে নিজ গ্রামের পাশে দখল/ক্রয়কৃত একটি বিশাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) বাড়ি।১০০ কোটি টাকা
অদৃশ্য শক্তির ছায়াতল ও স্থায়ী বরখাস্তের দাবি

​আব্দুর রহিমের এসব নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতো বড় দুর্নীতির পরেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে স্রেফ স্থান বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়নে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর সাধারণ ও সৎ কর্মচারীদের দাবি ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই দুর্নীতিবাজ অতিরিক্ত পরিচালককে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে,তাঁর নামে থাকা অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।

Top