সাংবাদিকরা সংবাদ লিখবে এতে কেউ হুমকি দিলে তা রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু মানছে না কেউ
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া : সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া বা হুমকি দেওয়া প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্পষ্ট অপরাধ হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও এ সংক্রান্ত আইনি পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রচলিত আইনের অবস্থানডিজিটাল নিরাপত্তা/সাইবার নিরাপত্তা আইন: ডিজিটাল মাধ্যমে হুমকি দিলে এই আইনে মামলার সুযোগ রয়েছে।
দণ্ডবিধি (Penal Code): দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তিকে অপরাধমূলক হুমকি দিলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান আছে।
আইনের প্রয়োগ: হুমকিদাতারা রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা মামলা করতে পারেন না।
সাংবাদিকতায় হুমকির মূল কারণ সমূহ:
তথ্য প্রকাশে বাধা: দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর প্রকাশ রুখতে প্রভাবশালী মহল হুমকি দেয়।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা: সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি না হওয়া।
নিরাপত্তাহীনতা: প্রান্তিক বা মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার অভাব।
ভয়ের সংস্কৃতি: মামলা বা শারীরিক লাঞ্ছনার ভয়ে অনেক সময় সেলফ-সেন্সরশিপ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি উত্তরণের উপায়:
আইনের কঠোর প্রয়োগ: প্রভাব বিবেচনা না করে অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
বিশেষ সুরক্ষা আইন: সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা।
মিডিয়া হাউসগুলোর ভূমিকা: কর্মরত সাংবাদিকদের আইনি ও মানসিক সহযোগিতা দেওয়া।
প্রেস কাউন্সিলের সক্রিয়তা: সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা।