দেশে সারের কোনো সংকট নেই
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন:দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। গত বছর এই সময়ে সারের মজুত ছিল ১২ লাখ টন।বর্তমানে গোডাউনে মজুত আছে প্রায় ১৩ লাখ টন।আর বন্দরে বা জাহাজে পাইপলাইনে আছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন।দেশে বছরে সারের মোট চাহিদা ৪০ লাখ ২৯ হাজার টন। ফলে সারের কোনো সংকট নেই।তিনি বলেছেন,আমি সরকারের বুলি আওড়াচ্ছি না, সত্যিটাই বলছি। দেশে এই মুহূর্তে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে বেশি।এছাড়া আরও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন সার পাইপলাইনে রয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় মনোযোগ আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।কৃষিমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন,একটি সংঘবদ্ধ দল বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েক দিনে আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পেরেছি। কৃষকবান্ধব সার বিতরণের লক্ষ্যে সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে প্রণয়নের জন্য নতুন নীতিমালা করেছে। এতে প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন করে মাস্টার ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন বিএডিসির, একজন বিসিআইসির এবং নতুন করে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ডিলারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালের গুদাম বা ধানের মিলে সার পাওয়ার মতো ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা, জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলাদা-আলাদা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সারের যে চাহিদা তার মাত্র ৩০ শতাংশ আমরা দেশে উৎপাদন করতে পারি। গ্যাস সংকটের কারণে ৭টি সার কারখানার মধ্যে ৬টিই বিভিন্ন সময় বন্ধ থাকছে। বাধ্য হয়ে দেশের চাহিদার সিংহভাগ সারই আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার আমদানিতে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে সার আসতে সমস্যা হচ্ছে। তবে চুক্তির কারণে সৌদি আরব বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে সার সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কাতার থেকে যে সার আসার কথা ছিল তার বিকল্প হিসাবে আমরা কানাডা এবং মরক্কো থেকে সার আমদানি করছি। কাজেই কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ : অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার। এই কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা হবে।
সংসদে এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের আনা জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে দেশে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এ খাতকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।