দেশি-বিদেশি উৎস থেকে কেনা হবে অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অডিও ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি সফল করতে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে কেনা হবে অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল। এজন্য ৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রস্তাবিটি নিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. কাউয়ুম আরা বেগম। সভায় প্রকল্পটির নিড অ্যাসেসমেন্ট বা প্রয়েজনীয়তা নিরূপণ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভ্রমণ খাতের প্রস্তাবিত ব্যয় থেকে ৫০ লাখ টাকা বাদ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যয় যৌক্তিক করতে একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, ‘দেশি-বিদেশি উৎস হতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ এর অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ’ নামের এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো-দেশি-বিদেশি মিডিয়া থেকে বিভিন্ন দলিণ সংগ্রহ ও কেনাকাটা এবং সাক্ষাৎকারভিত্তিক ডকুমেন্টারি তৈরি। এছাড়া ফিল্ম মিউজিয়াম ও ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন করে অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য হিসাবে সংরক্ষণ। সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
পিইসি সভায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকতাজানান, সভায় প্রকল্পটি গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কিংবা নিড অ্যাসেসমেন্ট বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এর জবাবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রতিনিধি জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই অথবা নিড অ্যাসেসমেন্ট করা হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় নিড অ্যাসেসমেন্ট করে এর ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দেওয়ার বিষয়ে সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা একমত পোষণ করেন।সভায় প্রকল্পের প্রস্তাবিত চুক্তিভিত্তিক যানবাহনের ব্যবহার এবং পরামর্শকের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় এসব বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি নেওয়া এবং পরামর্শকের ফি নির্ধারণে পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া ‘বিদ্যমান দেশি-বিদেশি উৎস হতে মুক্তিযুদ্ধের অডিও ভিজ্যুয়াল দলিল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের জিপ গাড়িটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে স্থানান্তরে বিষয়ে আলোচনা হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হন পিইসির সদস্যরা।
সভা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, অফিস সরঞ্জামাদি, আসবাবপত্র ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন লট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাজার দর কমিটি গঠন ও যৌক্তিকতাসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তব) সংযুক্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গভিত্তিক ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ বাদ দিতে বলা হয়েছে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের।
প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রচার ও বিজ্ঞাপন খাতে প্রস্তাবিত ২০ লাখ টাকা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুস্তক ও জার্নাল কেনায় ১৭ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ করতে বলা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ৩৯ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ লাখ, পেট্রোল-অয়েল ও লুব্রিকেন্ট খাতে প্রস্তাবিত ৮ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ লাখ এবং ভ্রমণ ব্যয়ের নামে ধরা ৮০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা ধরতে বলা হয়েছে।
এছাড়া কম্পিউটারসামগ্রীর জন্য ২০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ লাখ, পরামর্শক ফির জন্য ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নির্ধারণে পিপিআর অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সম্মানি বা পারিতোষিক খাতে ৩২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ লাখ, অনুষ্ঠান বা উৎসব খাতের ৩০ লাখ থেকে কমিয়ে ১০ লাখ এবং সাধারণ থোক হিসাবে প্রস্তাবিত ১০ লাখ টাকা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পিইসি।
প্রকল্পের আওতায় যেসব খাতে ব্যয় নির্ধারণে কমিটি গঠনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো-ইন্টারেকটিভ ওয়েবসবাইট, ৬টি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ইউপিএস, ৩টি ল্যাপটপ, ৭টি প্রিন্টার ও ৫টি ইমেম স্ক্যানার কেনা। এছাড়া একটি এডিটিং প্যানেল, একটি ৫০০ টিবি আর্কাইভাল স্টোরেজ, একটি ফিল্ম স্ক্যানার ও একটি ফটোকপিয়ার।আরও আছে, আসবাবপত্র, অন্যান্য জ্বালানি ও সরঞ্জামাদি, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-২০২৪ এর অডিও ভিজ্যুয়াল দলিলাদি সংগ্রহের খরচ। গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ এর সমন্বয়ক, ছাত্রনেতা, আহত ছাত্র-জনতা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ৩০০টি ডকুমেন্টারি তৈরির ব্যয় এবং বিশেষায়িত ফিল্ম মিউজিয়াম স্থাপনের খরচ।