ইসলামী ব্যাংকিং বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকিং বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক


বিশেষ প্রতিনিধি:ছয় মাসের পরিবর্তে ‍তিন মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে।একই সঙ্গে সুদহারের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতি প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অনেক চাহিদা থাকায় এর সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব আলোচনা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও হাসনাত আবদুল্লাহ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতি তিন মাস পর মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব করেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ প্রস্তাবের ওপর গভর্নর বলেন, ‘এটি ভালো পরামর্শ।আমার মনে হয়, এটা নেওয়া উচিত।

বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম। তবে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কিছু বলেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন,বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং ইসলামী ব্যাংকিং হলেও আমার ধারণা প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ইসলামী ব্যাংকিং করতে চান।নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাদের সেই সুযোগ না দিলে অপরাধ হবে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ করছে।তিনি বলেন,গত দশ বছরে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে যে সমস্যাগুলো হয়েছে, তার একটি বড় কারণ ছিল শরিয়াহ বোর্ডের দুর্বলতা। আমরা এখন শরিয়াহ বোর্ডকে আরও শক্তিশালী করছি এবং কীভাবে তাদের আরও ক্ষমতাবান করা যায়, সে কাজ করছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনায় বলা হয়, সরকার ঘোষিত বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি কার্যকর ও উপযোগী মুদ্রানীতির কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সুদের হারভিত্তিক মুদ্রানীতি থেকে ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি-লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক উদীয়মান অর্থনীতি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যভিত্তিক মুদ্রানীতি গ্রহণের মাধ্যমে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে একই ধরনের কাঠামো গ্রহণের মাধ্যমে সেই পথে অগ্রসর হতে পারে।উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, প্রচলিত ব্যাংকগুলোর মতো ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য এখনও আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার গড়ে ওঠেনি। এ ধরনের বাজার চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য সরবরাহে ইসলামিক ব্যাংক লিকুইডিটি সাপোর্ট, মুদারাবা লিকুইডিটি সাপোর্ট ও স্পেশাল লিকুইডিটি সাপোর্ট ব্যবহার করা হয়। অতিরিক্ত তারল্য তুলে নিতে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে,জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগে মন্দাভাব এবং বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা
কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ।বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ বহিঃখাতে কিছুটা ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করেছে এবং তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।

Top