ভান্ডারিয়ায় সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতিবাদ শিরোনামে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বরিশাল ইইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরূদ্ধে নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নিন্দা ও উদ্বেগ ... নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ বিআরটিসি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন এর নাম ও প্যাড ব্যবহার করে নেতৃত্বের পরিচয় প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের ... বরিশাল পুলিশ হাসপাতালে নার্সিং ইনচার্জের বিরুদ্ধে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত সুনাম ক্ষুণ... দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পরিবহন সাকুরা ! দেখলেই জনমনে আতঙ্ক

ভান্ডারিয়ায় সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এতিমখানার অনুদান আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানের শিকার হয়েছেন বরিশাল থেকে আসা দুই গণমাধ্যমকর্মী। এমনকি পুলিশ ডেকে এনে জোড়াজুড়ি করে মুচলেকা রাখা এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ তকমা দিয়ে অপপ্রচার চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও বরিশাল অঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, এ ধরনের ঘটনা মফস্বলে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ‘দারুলহুদা ইসলামিয়া দাখিল বালিকা মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে।

ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাদ্রাসাটিতে এতিম শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা কত, সরকার প্রদত্ত ক্যাপিটেশন গ্রান্টের টাকা কোথায় যায় এবং দাতা সংস্থার অনুদান ঠিকঠাক খরচ হচ্ছে কি না, এসব জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান জাতীয় ‘দৈনিক বিজনেস ফাইল’-এর বরিশাল ব্যুরো প্রধান মো. রাফি ও তাঁর সহকর্মী। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান চলাকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চেয়েও বেশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেন ভান্ডারিয়ায় কর্মরত স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রাফির অভিযোগ, “আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক আমাদের ওপর চড়াও হন, গালাগাল ও লাঞ্ছিত করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত ও মৌখিক মুচলেকা আদায় করা হয়। শুধু তা-ই নয়, আমাদের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ফেসবুকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহাবুব ইসলাম বলেন, “ঘটনার সময় আমি প্রতিষ্ঠানে ছিলাম না, তবে ফোনে বিষয়টি শুনেছি।” অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জানান, বরিশাল থেকে সাংবাদিকরা আসার পরপরই ভান্ডারিয়ার স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ৩/৪টি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে হাজির হন। দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পুলিশে খবর দেন। নজরুল ইসলামের ভাষ্য, “আমরা দুই পক্ষকেই ভেতরে এসে কথা বলতে বলেছিলাম। তবে টাকা-পয়সার কোনো লেনদেন বা লেনদেনের দাবি কোনো পক্ষ থেকেই ওঠেনি।”

অপরদিকে, সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করা ও মুচলেকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এশিয়ান টেলিভিশনের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি মো. নাইম হোসেন বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, “বরিশাল থেকে অনেকেই এসে বিভিন্ন স্থান থেকে অনৈতিক সুবিধা নেন। সেদিনও এমন ঘটনা ঘটেছে ভেবে সতর্ক করতে তাদের থেকে মুচলেকা রাখা হয়েছিল। তবে কেউ কাউকে লাঞ্ছিত করেনি। একজনের প্রেস কার্ডের মেয়াদ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।”

এঘটনায় ভান্ডারিয়া থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ‘সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি’র খবরে তারা টহল টিম পাঠান। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা স্পষ্ট জানান যে, বরিশাল থেকে আসা সাংবাদিকরা কোনো টাকা দাবি করেননি। বরিশাল থেকে আসা সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র সঠিক পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে, কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা চাঁদা দাবির প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় একদল সাংবাদিকের এমন অতি-উৎসাহী আচরণ ও পুলিশের উপস্থিতিতে মুচলেকা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্যই হলো জনস্বার্থ রক্ষা ও অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেখানে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা না বলে যদি সহকর্মীর ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ, লাঞ্ছনা বা অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়, তবে তা সমগ্র সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যই এক অশনিসংকেত। পিরোজপুর ও বরিশাল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং মফস্বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Top