এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।


আলোকিত বার্তা:বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।সরকার বিভিন্নভাবে তার জামিন বাধাগ্রস্ত করছে।অথচ এ ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ উপলক্ষে বুধবার ঢাকায় বিএনপির উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠকে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

গুলশানের হোটেল লেক শোরে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতে ‘এবসেন্স অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস বাই স্টেট অ্যাপারেটাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।বিএনপি সম্পাদিত বইটিতে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বইটির নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরেন ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ। এরপর বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।বৈঠকে গত ১০ বছরে ‘নিখোঁজ’ হওয়া ২৭টি পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রিয়জনের সন্ধান চেয়ে কারও কারও চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। গোলটেবিল বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ ১৫টি দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শামা ওবায়েদ ও ফারজানা শারমিনের পরিচালনায় বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, এএইচএম মোফাজ্জল করীম, নুর খান, মাসুদ আজিজ প্রমুখ বক্তব্য দেন।এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, রুহুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবদিন ফারুক, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, এনামুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জহিরউদ্দিন স্বপন, জেবা খান, তাবিথ আউয়াল, মীর হেলাল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, শায়রুল কবির খান, সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ বখতিয়ার আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের যে রিপোর্ট বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ দিয়েছে তা সরিয়ে আদালতে ভিন্ন রিপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাল্টানোর এমন আশঙ্কা করে তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) যে মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে সেটি এখন পর্যন্ত আসেনি। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি- বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে রিপোর্ট দিয়েছিল সেই রিপোর্টটি সরিয়ে অন্য কোনো রিপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা খুব পরিষ্কারভাবে লক্ষ্য করছি, অত্যন্ত সচেতনভাবে খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে আটক রাখতে সরকার কাজ করছে। তাকে আটকে রেখে সরকার বড় রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ৩০ নভেম্বর বিএসএমএমইউর ভিসির গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটি পড়েন। রিপোর্টে খালেদা জিয়ার অবস্থাকে ‘ক্রিপল স্টেইজ’ বলে উল্লেখ করে তার উন্নত চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এ রিপোর্টটিই সুপ্রিমকোর্ট চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি উপস্থাপন করা হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১০ বছরে দেশে শুধু ভিন্নমত ও ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তার কারণে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৮১৪টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৩৫ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সরকারের হাতে এবং আওয়ামী লীগের হাতে বিরোধী দলের ১ হাজার ৫২৬ জন নেতাকর্মীরা মারা গেছেন। বিএনপির ৪২৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় ৭৮১ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী বছর আমরা দেশের ৫০ বছর পালন করতে যাচ্ছি। কিন্তু এখনও সন্তানকে বাবার জন্য, মাকে তার সন্তানের জন্য কাঁদতে হচ্ছে। গোটা দেশে এমন একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ কোনো অধিকারই পাচ্ছে না।মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বোকা বানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি গণতন্ত্রই না থাকে, গণতন্ত্রের পরিবেশ না থাকে তাহলে সেটা কখনই ফলপ্রসূ বা টেকসই হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।গোলটেবিল বৈঠকে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল মানবাধিকার রক্ষায় সে দেশের সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন। পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতেও তিনি বক্তব্য দেন। দুই পৃষ্ঠার বক্তব্য রাখার সময় মির্জা ফখরুল দু’বার তাকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করেন।

Top