নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে তোড়জোড়,থেমে নেই কর্মকাণ্ড - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
পুলিশের শীর্ষ ১০০ কর্মকর্তার মধ্যে একজন নারী মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী যাবে ‘জিরো কস্টে’ একই দিনে দুই প্রধান শক্তির শোডাউন,রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা ঢাবিসহ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়সূচি প্রকাশ,ভর্তি পরীক্ষা জেনারেটরে পুড়ছে লাভের টাকা, হতাশ ব্যবসায়ীরা,লোডশেডিংয়ে কুয়াকাটার পর্যটনে ধস হ্যাকারের দখলে সরকারি সাইট,নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ডিজিটাল সিস্টেম কৌশলে বাজারে সয়াবিন চিনির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে কোম্পানি গুলো দল পুনর্গঠনে পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি দিন যত যাচ্ছে বেরিয়ে আসছে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা,রেকর্ড লোকসানে ব্যাংক খাত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বোমা আতঙ্ক,কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে তোড়জোড়,থেমে নেই কর্মকাণ্ড


মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ : খুলনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি সাংগঠনিক অন্য তৎপরতা বেড়েছে। সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়াতে মহানগর ও জেলার পুরোনো কমিটি ভেঙে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। নতুন কমিটিতে পদ পেতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা নানা উপায়ে লবিং শুরু করেছেন। সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও পাঠাচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে। তবে সংগঠনটির এমন কার্যক্রম নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল তৎপরতার কারণে ছাত্রলীগ কার্যক্রম চালাতে পারছে।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর সংগঠনটির প্রকাশ্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খুলনার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের পুনর্গঠনের চেষ্টা এবং গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর খবর সামনে আসছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে পদ প্রত্যাশীদের সিভি আহ্বান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ই-মেইলে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) পাঠাতে বলা হয়েছে। জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে সদ্য তোলা এক কপি ছবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, এসএসসি ও এইচএসসিসহ সব পাবলিক পরীক্ষার সনদ, সর্বশেষ পরীক্ষার সনদ বা মার্কশিট এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ বা বৃত্তিমূলক কাজের সনদ সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবেদন পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তির কপি ইতোমধ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। খুলনার কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী প্রকাশ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ওই ই-মেইলে জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কেউ কেউ নিজেদের আবেদন প্রস্তুতের কথাও জানিয়েছেন।খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ি সভাপতি তার ফেসবুক ওয়ালে কেন্দ্রে ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করে লিখেছেন‘স্বাগতম, শেষ দিন পর্যন্ত তোমাদের হয়ে কাজ করতে পেরেছি এই তৃপ্তিটুকু নিয়ে সারা জীবন একজন কর্মী হয়ে কাজ করব।’

কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার পর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনও স্ট্যাটাস দিয়ে আগামীর নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এবার জেলা ছাত্রলীগে সভাপতির পদ প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম সাইফ। তার ফেসবুক ওয়ালে হ্যান্ডকাফ পরানো ছবি দিয়ে ক্যাম্পেইন চলছে। তার সমর্থনে গত দুই দিনে অন্তত কয়েকশ পোস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি পদ পেতে রণবীর বাড়ৈ সজল এবং সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে সোহান হোসেন শাওন ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন।এসব কর্মকাণ্ডই জানান দিচ্ছে কার্যক্রম থেমে নেই ছাত্রলীগের। ১৬ জুলাই নগরীর তিনটি স্থানে এবং ১৮ জুলাই ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ব্যানার হাতে হঠাৎ করে কয়েক মিনিটের জন্য মিছিল করে দ্রুত সরে পড়েন অংশগ্রহণকারীরা। গত দুই মাসে কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা ও রূপসায় অনেকগুলো মিছিল করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার তাজুল ইসলাম বলেন,জেলায় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড খুবই কম। পুলিশ প্রশাসন তাদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।গোয়েন্দা সংস্থার একটি তালিকায় ৬০ জনের নাম উঠে এসেছে, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন। ওই তালিকায় সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজনের নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নেপথ্য থেকে অর্থ সহয়াতা দিচ্ছেন। ১৬ জুলাইয়ের মিছিলের অর্থের জোগানদাতা হিসাবে সদর থানা যুবলীগের সদস্য ফাইজুল ইসলাম টিটোর নামও উঠে এসেছে। তিনি আত্মগোপনে আছেন।

ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ডে পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সংগঠিত হচ্ছে- এটি অশনি সংকেত। রাজপথের বিক্ষিপ্ত মিছিলের পাশাপাশি ভার্চুয়ালি ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কমিটি গঠনের পাশাপাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।এ বিষয়ে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।’

Top