ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
রিপোর্ট আলোকিত বার্তা :কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসাবে পরিচিত ‘দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী’ কালা মোবারক।বুধবার সকালে লেলাং ইউনিয়নের ওই বাড়ি থেকে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এতে আহত হন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য। কিন্তু একপর্যায়ে মোবারকের গুলি আটকে যায়, তখনই পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। তাদের কাছ থেকে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে তার অবস্থানের খবর পেয়ে পুলিশ সেটি ঘিরে ফেলে। বাড়ির লোহার দরজা ভেঙে ভেতরের একটি ওয়াশরুমে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদ থেকে পুলিশের ওপর গুলি চালাতে থাকেন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, বুধবার ভোরে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পাল্লানপাড়ায় ওয়াজ পাল্লানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়। একপর্যায়ে মোবারকসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যরা হলো-মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান, ফরিদ উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন। তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩টি গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসীদের গুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, কনস্টেবল মামুনুর রশিদ, কনস্টেবল শাহনেওয়াজ ও কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী মোবারক পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসাবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই মধ্যে ওই হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম কমান্ডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ বাহিনীটির সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক ওই হত্যা মামলার সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি। তার কাছ থেকে ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম বিদেশি তরাস পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, এটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র। অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে এটি অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, মোবারক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাদের প্রধান শুটার হিসাবে পরিচিত। অস্ত্র পরিচালনায় সে পারদর্শী। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে চলমান বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।