বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি
প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহারের পরদিন ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় আসেন তারা।মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ-ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ‘লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ উঠে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় গত সোমবার লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহার দুটিতে বিএনপির ২৫ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
লালপুরে দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত ১৮ জন হলেন- গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল বারী কাজল, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান, আরবাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির মোহাম্মদ আলী আজম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং পৌর যুবদলের মো. সুমন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত সাতজন হলেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। দায়েরকৃত এজাহারে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন,রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট বা সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত,তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি।তবে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি বা দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
নাটোর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সরকারদলীয় দোষী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ায় এমন করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা হলে কর্মক্ষেত্রে তারা অসহায় হয়ে পড়বেন। এমন সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাদের পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা যেত। তাতে দেশের জন্য ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।’
লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের আসামি করে এজাহার দায়ের করা নিয়ে নাটোর পুলিশ সুপার কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য নেই।