এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে চায় জামায়াত - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে চায় জামায়াত


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা :আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।একই সঙ্গে দলটি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের অযোগ্য ঘোষণা এবং ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ ইসি সচিবালয়ে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিও করেছে দলটি।বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টার পরে। সিইসি ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। জামায়াতের পক্ষ থেকে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল ও জসিম উদ্দীন সরকার এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে কমিশনের সঙ্গে জামায়াত বৈঠক করেছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ৩০ জুন ইসিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুদীর্ঘ ইতিহাসে স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন। এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। একটা নির্বাচন করতে পারবে, আরেকটা পারবে না-এই বৈষম্য সংবিধানে নাগরিক অধিকারের খেলাপ। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন ইসি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।

সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে : বুধবারের বৈঠকে চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি সামসুল আলমকে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এখানে রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ যে কোনো নির্বাচনের নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য অন্তরায়। সামসুল আলম বিএনপির নির্বাচনি আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন। তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারছি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় ইসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি সরকারি দলের লোকদের স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী করে নিয়ে আসতে পারেন। তিনি বলেন, ইসি তাদের বলেছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তারা নাকি জানতেন না। সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, কথার ভেতর দিয়েই তো তাদের অক্ষমতার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়েছে।

দলীয়করণের জন্যই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল :স্থানীয় সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকারের পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া মানেই নির্বাচনকে নিরপেক্ষ হতে দেওয়া হলো না। দলীয়করণের জন্যই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখানে পক্ষপাতিত্ব হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে না।

স্থানীয় সরকারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া নানা বক্তব্যের সমালোচনা করেন পরোয়ার।তিনি বলেন,ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা একেক সময় একেক কথা বলছেন।কেউ বলেন জানুয়ারি,কেউ ফেব্রুয়ারি আবার কেউ বলেন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন। সুপ্রিমকোর্টের রায় ঘোষণার দিনই চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সরওয়ার আলমগীরের গেজেট প্রকাশে ইসির সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।

সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক : এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, আমরা স্পিকার ও ইসির কাছে চিঠি দিয়েছি। আমাদের দিক থেকে দল থেকে বহিষ্কার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সদস্য পদের বিষয়টি সাংবিধানিক। এটা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে গতকাল আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

Top