মির্জা ফখরুল ও রিজভীকে মূল্যায়ন উজ্জীবিত বিএনপির তৃণমূল - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুল ও রিজভীকে মূল্যায়ন উজ্জীবিত বিএনপির তৃণমূল


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া: বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। দল মনোনীত করার কারণেই তিনি অনন্য এই উচ্চতায় পৌঁছতে পেরেছেন।এছাড়া দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে।পরীক্ষিত এই দুই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখে উজ্জীবিত দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্যের মূল্যায়ন হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, ‘এটি শুধু দুই নেতার পদোন্নতি নয়;বরং দলের ত্যাগের স্বীকৃতি। এতে পুরোনো নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। দলে যারা দুঃসময়ে পাশে থাকেন,তাদের মূল্যায়ন হলে কর্মীরা সাহস পান; নতুন প্রজন্মও উৎসাহ পায়। ফলে রাজনীতিতে ত্যাগের গুরুত্ব বাড়ে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ সময় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। নানা সংকটে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মামলা ও সরকারের চাপ উপেক্ষা করে তিনি দলের পাশে ছিলেন। গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে শুক্রবার শপথ নেন তিনি। অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী আহমেদও দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। বিএনপির কঠিন সময়ে তিনি মাঠে ছিলেন। দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার নিয়মিত যোগাযোগ। দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এবার সেই রিজভী আহমেদকে দেওয়া হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব। গত ১৫ আগস্ট সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় ছিলেন-এমন একজন (বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য)বলেন,আমাদের মধ্যে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা আছে। তবে বিএনপির দুর্দিনের ত্যাগী এই দুই নেতার দায়িত্বপ্রাপ্তিকে মূল্যায়নের স্বীকৃতি হিসাবে দেখছি। এতে চাঙা হয়ে উঠবে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী দেশ, জনগণ ও দলের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশা করছি, বিএনপির সাংগঠনিক বলয় আরও শক্তিশালী হবে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপরই রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার ঘোষণা আসে। এক দিনে দুটি সুসংবাদ পেয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও আনন্দ মিছিলও হয়।বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ‘দুই নেতার পদায়ন দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা।এতে ত্যাগী নেতারা উৎসাহ পাবেন; দলের জন্য কাজ করলে মূল্যায়ন হয়; এই বার্তাও যাবে তৃণমূলে।তারা আরও বলেন,নতুন দায়িত্বে রিজভীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলকে আরও শক্তিশালী করা। কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে সংগঠন আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছি।

জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর মূল্যায়নে দলের সব পর্যায় থেকেই প্রশংসা আসছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করা নেতা। উনার চরম সমালোচকও বলতে পারবেন না যে উনি কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তাছাড়া উনার শিক্ষকতা পেশা এবং সাংস্কৃতিক মনোভাব, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অর্থাৎ সাংবিধানিক প্রধানের পদটি একজন সুন্দর, সংবেদনশীল, জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তির হাতে গেছে বলে সবাই মনে করছেন। রুহুল কবির রিজভীও দলের জন্য অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম স্বীকার করেছেন। কষ্ট সয়েছেন। আর বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারাতেই বলা আছে যে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন। সেটা অনুসরণ করেই তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ের আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

নাটোর-২ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘এই দুই নেতার মূল্যায়নে তৃণমূলে ইতিবাচক সাড়া মিলবে। কারণ তারা (মির্জা ফখরুল ও রিজভী) তৃণমূল পর্যায় থেকেই আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছেন। এটি সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। এতে করে আমাদের মতো ত্যাগী ও কষ্ট করা মানুষগুলো উৎসাহবোধ করছেন। এখন আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করি, তাহলে আশা করি আগামী দিনে দলের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে এবং দল সুসংগঠিত হবে বলে আমি মনে করি।’

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়, তাদের সঠিক দায়িত্ব দেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।’ রুহুল কবির রিজভীর বিগত দিনের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাকসুর ভিপি থাকাকালীন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ইতিহাসসহ বিগত আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এ মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। এছাড়া সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে সম্মান জানানোয় প্রমাণ হয়েছে যে, দল তার নিষ্ঠাবান কর্মীদের অবদানের কথা ভোলে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের নেতাকর্মীরা নতুন করে সুসংগঠিত ও উজ্জীবিত হবে বলে আমি আশাবাদী।’ প্রায় একই কথা বলেছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

কয়েকটি জেলার নেতারা জানান, দলের শীর্ষ পর্যায়ে ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে ওঠেন। জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জেলা ও থানাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশা সঞ্চার হচ্ছে।

Top