৭১ ও ২৪-কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
৭১ ও ২৪-কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতার মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি, প্রতিবাদে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল বরিশাল চরকরনজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি ! জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন গণআন্দোলনের আশঙ্কা প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা ১১ দলের

৭১ ও ২৪-কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা:আমরা অবশ্যই আমাদের কৃষ্টি, আমাদের সংস্কৃতিকে সামনে রেখে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে সাথে রেখে, ২০২৪-কে সামনে রেখে এগিয়ে যাব। আমরা কোনোটাকে বাদ দিতে চাই না,কারণ এটা আমাদেরই জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম; অধিকার সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে গেছি।শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় ও প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতার পঙক্তি টেনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা একই মায়ের সন্তান, বাংলাদেশের সন্তান। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাব। আমরা তো একই বৃন্তের ফুল।আয়োজনে সম্মিলিত সনাতনী পরিষদ এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা ‘৭১-কে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতে হলে ১৯৭১ সালকে অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই সামনে আনতে হবে; এবং সেটাকে নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। একই সাথে আমরা জুলাইকে অস্বীকার করতে পারি না, কারণ আমাদের অসংখ্য সন্তান বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে এবং একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। এই বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কোনোটাই আমরা ছোট করে দেখি না।তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে যারা দেশকে বিভাজন করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না, মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে একটা উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালে একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। দুর্ভাগ্য আমাদের, যে গণতান্ত্রিক চেতনাকে সামনে নিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম ও লড়াই করেছিলাম, সেটাকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। যারা দায়িত্বে ছিলেন সেদিন, তারা সেই ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তারা গণতন্ত্রকে ভুলে গিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা সামনে নিয়ে এসেছিলেন এবং পরবর্তীকালে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসলে আমার কাছে মনে হয় যে, আমাদের মূল দুর্বলতাটা হচ্ছে—আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারিনি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই আমাদের পারস্পরিক যে অধিকার—আপনার অধিকার, আমার অধিকার, ধর্মীয় অধিকার—সবকিছু এখানে রক্ষা হতো। যেহেতু আমরা পারিনি, সে কারণে সে অধিকারগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকার সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করছে, যাতে করে তারা সেফ ফিল করেন, নিরাপদ বোধ করেন—সেই ব্যবস্থাটা আমরা এখানে করার চেষ্টা করব। আমি পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। এইজন্য চাই না যে, বারবার পেছনে তাকিয়ে অতীতচারিতা করে আমরা সামনের দিকে এগোতে পারি না। আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই। আপনাদের সাথে যেন কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে ব্যবস্থাটি আমরা সচেতনভাবে দেখতে চাই। একটি মহল কিন্তু খুব সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আপনারা নিশ্চয়ই সেটা লক্ষ করছেন, নিশ্চয়ই সেটা দেখেছেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের অনেক সমস্যা আছে, অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হচ্ছে, একটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট পার হতে হচ্ছে। ১৫ বছরে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এখন একটা সুযোগ পেয়েছি আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার। আসুন, আমরা সেই চেষ্টাটা করি।

Top