রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের


প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:সফরকারী পাকিস্তানের জন্য সিরিজটা ছিল অনেকটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উলটো। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। প্রতিপক্ষকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করাই ছিল মেহেদী হাসান মিরাজদের লক্ষ্য। দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশাজনক হারে সেটা সম্ভব হয়নি।রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসানের (১০৭) দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা পাঁচ উইকেটে ২৯০ রান তুলেছিল। জবাবে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শেষ বলে ২৭৯ রানে অলআউট হয়। ১১ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১-এ জিতে নিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়।সিরিজ জিতে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আবার ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের নবম স্থানে উঠে এসেছে। দশে থাকা ক্যারিবীয়দের র‌্যাটিং পয়েন্ট ৭৭, বাংলাদেশের ৭৯। এই জায়গা পোক্ত করতে হলে আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও বাংলাদেশকে ভালো করতে হবে।

বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ ও প্রথম ম্যাচের নায়ক নাহিদ রানা। এরপর মোস্তাফিজও উইকেট পেলে ৮২ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। টপ অর্ডারে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন অভিষিক্ত গাজী ঘোরি। এরপর মিডল অর্ডারে আরেক অভিষিক্ত সাদ মাসুদও (৩৮) হাল ধরার চেষ্টা করেন। তিনি মোস্তাফিজকে মারতে গিয়ে আউট হন। এরপর পাকিস্তানকে একাই টানেন আগের ম্যাচে অদ্ভুত রান আউট হওয়া সালমান আগা। তার ৯৮ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি পাকিস্তান। শেষ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১৪ রান। মাত্র দুই রান দিয়ে শেষ বলে ৩৮ বলে ৩৭ রান করা শাহিনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। তবে মূল কাজটি করেছেন কাল পেসাররা। তাসকিন আহমেদ চারটি, মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি ও নাহিদ রানা নেন দুই উইকেট।

এরআগে বাংলাদেশের ইনিংসের ৩৩তম ওভারে তানজিদ হাসান যখন সালমান আগাকে ছক্কা মেরেছিলেন, তখন তার হেলমেটও ছিল না। নন স্ট্রাইকে থাকা লিটন দাসের দিকে এগিয়ে যান, এরপর সেজদা দেন এবং ঘাম মুছে দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিছুক্ষণ। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির উদ্যাপন ছিল ঠিক এমনই। তার সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ প্রায় তিনশ ছুঁই ছুঁই স্কোর করে ফেলে।

প্রথম ম্যাচের উইকেটে খেলা হয়েছে কালও। পেসারররা যেমন বাউন্স পেয়েছেন, তেমনি স্পিনারদের জন্যও ছিল সুবিধা। ছয় চার ও সাত ছক্কার সাজানো ছিল তানজিদের ইনিংস। তিনি প্রথম উইকেটে সাইফ হাসানের সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। অস্বস্তি নিয়ে খেলা সাইফ ৫৫ বল খেলেও মাত্র ৩৬ রান করতে পারেন।

প্রথম ওভারগুলোতে দুই ব্যাটারই সুবিধা পেয়েছেন পাকিস্তানের অধারাবাহিক বোলিং থেকে। শাহিন আফ্রিদি ফেরান সাইফকে। দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শান্তকে (২৭) ফেরান হারিস রউফ। তবে সেঞ্চুরির পর তানজিদও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। আবরার আহমেদের একটা সাধারণ বলে আলগা শটে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তানজিদ। পরে রউফ দ্রুত দুই উইকেট নেন। তিনি ফেরান লিটন দাস ও রিশাদ হোসেনকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৯০/৫ রানে পৌঁছাতে পারে তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে। তিনি ৪৪ বলে চার চারে ৪৮* রান করেন। মন্থর ব্যাটিংয়ে লিটন দাস ৫১ বলে করেন ৪১ রান। শেষদিকে উইকেট থাকার পরও ঝড় তুলতে পারেননি স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা। ৫২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া রউফই পাকিস্তানের সেরা বোলার।

Top