টিকার আওতায় এসেছেন দেশের প্রায় দশ কোটি মানুষ
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:টিকার আওতায় এসেছেন দেশের প্রায় দশ কোটি মানুষ। গত এক বছরে এরা শুধু প্রথম ডোজ পেয়েছেন। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে হিসাবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এর আওতায় আসার কথা। এর মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৫৩৫ জন। এছাড়া ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭২ জন বুস্টার ডোজ পেয়েছেন। গত বছরের ২৭ জানুয়ারি থেকে দেশে টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে প্রতিষেধক হিসাবে টিকা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের টিকাদান প্রায় শেষ। সিনিয়র সিটিজেনদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া চলছে। সাধারণ মানুষ ও বস্তিবাসীদেরও এর আওতায় আনা হয়েছে। রোববার থেকে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ভাসমান জনগোষ্ঠী তথা ছিন্নমূল মানুষদেরও টিকাদান শুরু হয়েছে। এদিন সকালে মিরপুরের জামিয়া সিদ্দিকীয়া নূরানি মাদ্রাসার ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি ৫০০ ও ১৮ বছরের বেশি ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় কমলাপুর রেলস্টেশনে ভাসমান মানুষের মাঝে টিকা দেওয়া হয়।
কওমি শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এখন সারা দেশে বাদ পড়া সবাইকে খুঁজে বের করে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কমিটির সদস্য সচিব ডা. শাসমুল হক যুগান্তরকে বলেন, টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম বিভাগ, জেলা, উপজেলা এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকেও পৌঁছে গেছে। এ কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ কোটি টিকা এসেছে। পাঁচ কোটি টিকা মজুত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া টিকা আপডেট পর্যালোচনা করে দেখা যায় দেশে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকাদানের সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার ১৪ দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৭ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৫৩৫ জন। এছাড়া ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭২ জন বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।গত বছরের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়। এর দশ দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা শুরু হয়। মাত্র ১ বছরের মধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ১৬ কোটি ডোজ টিকা প্রদানের মাইলফলকে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজের আওতায় চলে এসেছেন প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ। আর দুই ডোজ পেয়েছেন অন্তত ৫০ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. নাজমুল ইসলাম রোববারই এ মাইলফলকে পৌঁছার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখের বেশি। আমরা আশাবাদী, আজকেই প্রথম ডোজ টিকাদানের ১০ কোটির মাইলফলকে পৌঁছে যাব। শনিবার পর্যন্ত ১ কোটি ৪১ লাখ শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ এবং ২৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছে বলে জানান। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্লিনিকে ১ কোটি ৪ লাখের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন।দেশ টিকা কর্মসূচি শুরু হয়েছিল অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড প্রয়োগের মাধ্যমে। এরপর আসে চীনের সিনোফার্মের টিকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় জাপান, রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে আসতে থাকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা।এক সময় যুক্তরাষ্ট্র ফাইজারের টিকা পাঠাতে শুরু করে। এতে করে টিকাদান কার্যক্রম চলে পূর্ণোদ্যমে। সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদেরও টিকাদান কর্মসূচি। ১৬ নভেম্বর থেকে রাজধানীর বস্তিগুলোর বাসিন্দাদেরকেও টিকা দেয়া শুরু হয়। জনস্বাস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে কোনো দেশের ৭০ শতাংশ জনগণকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে হার্ড ইমিউনিটি (জনস্বাস্থ্যগত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) তৈরি হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ মিলিয়ে সাড়ে ১৬ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হলেও সার্বিকভাবে ১১ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে তিন ডোজ টিকা দিতে হবে। তবেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে এবং করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুরোধ করা সহজ হবে।