সাংবাদিকতা পেশার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড. মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়... ছুটির দিনেও কর্মচাঞ্চল্য সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল, নেই অস্থিরতার ছাপ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি, আজ থেকে আবেদন ক্ষমতার শীর্ষে বসে দমন-পীড়ন ঈদুল ফিতরে ৫ আজহায় ৬ ও পূজায় ২ দিন ছুটি,২০২৭ সালের তালিকা নির্মাণে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে সুপারিশ শ্রমিকদের নতুন মজুরি দুই মাসের মধ্যে ষড়যন্ত্রের রূপরেখা তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা, ছক কষেছে পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি করে

সাংবাদিকতা পেশার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক:একদল চ্যালেঞ্জটিকে গ্রহণ করছে যে, তথ্যের প্রবাহের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠতা যাতে দূষিত না থাকে সেটাকে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়, আরেকদল দূষিত করার জন্য সাংবাদিকতা করছেন। ফলে সাংবাদিকতা পেশার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা দরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, তথ্যকে ফিল্টারিং করাটা হয়ে গেছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই গণমাধ্যমকে দুই ধরণের লোক ব্যবহার করছে, দুইজনের হাতে সাংবাদিকতার কার্ড রয়েছে। কোন সাংবাদিকতা ব্লাকমেইলিং আর কোন সাংবাদিকতা আমাদের অনিবার্য এটাকে ভাগাভাগি করতে না পারলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারবে না। এই কাজ সরকার একা করতে পারবে না, আপনাদের অংশীদারিত্ব লাগবে।সোমবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিক কল্যান ট্রাস্টের আয়োজনে বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করনীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় মন্ত্রী আরো বলছিলেন, সাংবাদিকতার মত পেশাকে কাঠামোবদ্ধ করতে না পারার কারণে আমাদের সামনে আগে শুধু একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো ‘ফ্রিডম অফ প্রেস’, এখন কিন্তু তার চেয়ে বেশি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে ‘মিস ইনফরমেশন’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এ পর্যন্ত আমি যাদেরকে সাক্ষাৎ করতে নিয়ে গিয়েছি বিশিষ্ট সম্পাদক, সাংবাদিক, পত্রিকার মালিকবৃন্দ তারা সবাই কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যে এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের চাপ অনুভব করেনি। এই কথাও সত্য তারা চাপ অনুভব করেনি ঠিক আছে, কিন্তু তাদের জীবনমানের কি গুনগত পরিবর্তন ঘটেছে, সাংবাদিকদের পেশাগতভাবে নিরাপত্তার মাত্রাটা কি বেড়েছে, তাদের বেতনের নিশ্চয়তা কি বেড়েছে, তাদের পেশাগত পরিবেশ কি উন্নত হয়েছে, সাংবাদিকদের সাথে মালিকের যে সম্মানজনক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন তা কি হয়েছে, ওয়েজবোর্ড মানা না মানার বিষয়ে সরকারের যে ভূমিকা রাখা দরকার সরকার কি সেটা পেরেছে। অতএব এখন কিন্তু পক্ষ আর এটা না যে, রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী বনাম একজন মুক্ত সাংবাদিকতার সাহসী ব্যক্তি। এটাই কিন্তু এখন বিরোধ না, এখন কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড় বিপদ হচ্ছে একজন পেশাদার দায়িত্বশীল যোগ্য সাংবাদিক তিনি তার পেশায় সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে কি পারবে না। অন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র নাগরিক যেমন অবসরকালীন জীবনযাপন করেন, তিনিও তেমন অবসরকালীর জীবন যাপন পাবেন কি পাবেন না। সাংবাদিকদের কল্যানে কাজ করতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা দরকার।

জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, আমি মালিকপক্ষের সাথে ওয়েজবোর্ড নিয়ে কথা বলছি, সম্পাদকদের নিয়ে সম্পাদকীয় নীতিমালা নিয়ে কথা বলছি, সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলছি। পত্রিকাগুলোতে যে সরকারি সুবিধা, বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র বন্টন করা হয় সেই ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। টেলিভিশন জার্নালিজমে টিআরপির কোনো সাইন্টিফিক মেথড নেই, মাত্র কয়েকটি সেটবক্স দিয়ে একটা ফুল মিথ্যা হিসেব চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পত্রিকার ছাপার সংখ্যার ব্যাপারে একটা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে, মন্ত্রী বাহাদুর তার ক্ষমতার বলে সেটার সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে যুক্ত হচ্ছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে মিথ্যা বলার দায়িত্ব নিচ্ছেন। যে পত্রিকা ছাপে ১ লাখ, সেই পত্রিকাকে বলছে ১০ লাখ। অথচ এটাকে কিন্তু সত্য কথা বলেও সরকার যে উপকার করছে তাতে মিথ্যা কথা বলার দরকার নেই।

আমরা এভাবে বিজ্ঞাপন, মিডিয়া লিস্টিং, ক্রোড়পত্র বন্টন, টিআরপি, নিউজ পেপার রেটিং পয়েন্টে আমরা হাত দিতে শুরু করেছি। এটা এমন নাজুক সংবেদনশীল ও জরুরী জায়গা যে এটাকে কাঠামোগত ভাবে দাড় করতে না পারি তাহলে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হবে। এই কাজটার সাথে সাংবাদিকরা ও মালিপক্ষরা জড়িত। একটা সাংবাদিকতার জগতের গুনগত পরিবর্তনের সফল জাতি পাবে শতশত বছর।

মন্ত্রী বলেছেন, ভাষা ভাষা বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলে, ভাষা ভাষা জ্ঞান নিয়ে সাংবাদিকতার নেতৃত্ব না দিয়ে গভীর প্রবেশ করতে হবে। আমি যতটুকু সম্ভব আপনাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। সাংবাদিকদের কল্যান মানেই আমি মনে করি দেশের কল্যান ও জাতির কল্যান। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে আমাদেরকে টিকিয়ে রাখতেই হবে, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়ে, প্রয়োজনে জীবনের বিনিময়ে।সাংবাদিক কল্যান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বিএফইউজে’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু ও বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।

Top