ব্রিফকেসবন্দি ২১০টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
আলোকিত বার্তা:ব্রিফকেসবন্দি ২১০টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয়তলায় বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, এই ২১০টি পত্রিকা মূলত ব্রিফকেসবন্দি, যেগুলো আসলে ছাপা হয় না, মাঝেমধ্যে হঠাৎ ছাপানো হয়। পত্রিকাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২১০টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।সাংবাদিকদের দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির সহায়ক শক্তি বর্ণনা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত সাড়ে ১২ বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ধান্দাবাজও যুক্ত হয়েছে, এটিই বাস্তবতা।আবার কেউ একটি ব্রিফকেস নিয়ে গণমাধ্যমের মালিক হয়ে যাচ্ছে, উনিই মালিক, উনিই সাংবাদিক, উনিই রিপোর্টার। উনি এই দপ্তর থেকে ওই দপ্তরে ঘুরে বেড়ান বিজ্ঞাপন ‘কালেকশন’ করেন এবং সেই বিজ্ঞাপন যেদিন পান সেদিন পত্রিকা ছাপেন। ১শ পত্রিকা ছাপেন, ১শ দপ্তরে দেন। ক্ষতিটা মূল ধারার সাংবাদিকদের ওপরই পড়ছে। এতে ভালো গণমাধ্যমগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, অনেক সময় টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ গণমাধ্যমকে নিজের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, নিউজপ্রিন্টের যে কোটা আছে, সেটা নিয়ে তা বিক্রির জন্য ডিক্লারেশন নিয়েছে। তাদেরটা বাতিল হবে। মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে এবং আমরা একযোগে কাজ করতে পারছি বিধায় দেশকেও আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। নতুন আরও পত্রিকার ডিক্লারেশন দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রাজশাহী বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সভাপতি খায়রুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বিশেষ অতিথি এবং বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চৌধুরী আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিক্লারেশন নিয়ে তারা পত্রিকা চালায় না, বিজ্ঞাপন নেওয়ার জন্য পত্রিকা ছাপায়। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের সংবাদ প্রচার করবেন। যেসব বিষয়ে সাফল্য রয়েছে সেগুলোও গুরুত্বসহকারে প্রচার করবেন।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ফখরুল সাহেব স্বীকার করুন আর না করুন, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিবিদরা স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ঢাকা শহরে এখন খালি পায়ে মানুষ দেখা যায় না। দেশের মানুষ এখন অনেক ভালো আছেন।