ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ
মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন:ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগ এবং এ বিষয়ে চলমান আন্দোলন ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয় জাতীয় সংসদ। আলোচনায় বিএনপি ও জামায়াতের সংসদ-সদস্যরা পালটাপালটি অভিযোগ এনে বক্তব্য দেন।ব্যাংকের শেয়ার বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা নোটিশের ওপর আলোচনায় এ উত্তাপ ছড়ায়।জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে এ দলের নির্বাচনি কার্যক্রমে ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় কার কত শতাংশ শেয়ার আছে, তা প্রকাশের দাবি জানান তিনি। এছাড়া জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে খুবই সেইফ। একেবারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ইসলামী ব্যাংক বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ব্যাংক যদি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে বসে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে নিরাপদ। এ ব্যাংক ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করলে জামায়াত লাভবান হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধিতে এ আলোচনা হয়। এ সময় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আলোচনায় বিএনপির পক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অপরদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ ৫ জন বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে ছিলেন। আলোচনায় সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনে জামায়াত প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করে দেন স্পিকার।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে সংসদে আলোচনার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। নোটিশে বলা হয়, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছিল। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ঠিক এমন সময় আবারও পুরোনো ব্যাংক দখলকারী চক্রের দৃষ্টি ব্যাংকটির দিকে পড়েছে। নতুন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক ও অন্যায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অতীতে ‘জামায়াতি ব্যবস্থাপনা’র অভিযোগকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল, আজ আবারও একই কৌশলে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এর ফল ব্যাংক, গ্রাহক কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না, এর প্রমাণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আমানত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা আস্থার সংকটের স্পষ্ট প্রতিফলন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান শেয়ারহোল্ডিং স্ট্যাটাস অনুসারে এখানে ৮১ শতাংশ বোধহয় একটা গ্রুপের। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নোটিশে, এটা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে এই মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন কারা কত পারসেন্ট শেয়ারের মালিক, সেদিনও বক্তৃতায় বলেছিলাম, সেটা প্রকাশ করা হোক। মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অনুরোধ করে জাতির সামনে প্রকাশ করা হোক।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে শেয়ার খরিদ করেছে,সেটা আলাদা বিতর্ক। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে।মামলা হতে পারে।বাট শেয়ারহোল্ডার ইজ শেয়ারহোল্ডার।পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানির মধ্যে সেটা আলাদা ডিবেট এবং আলাদা তদন্ত হতে পারে।তিনি বলেন,এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলামী ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে,ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’ মন্ত্রী বলেন,ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম ইসলাম নয়,জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।
জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে নির্বাচনে দলটির পক্ষে ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থায়ন করা হয়েছে, এমন ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আরডিএস নামে একটি প্রকল্প আছে। এটি হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লি উন্নয়ন প্রকল্প নামে। তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে। লাইনে আমারে গোটা জিজ্ঞেস করছে আমার এক কর্মী, মা আপনি কোথায় দিলেন? বলছে যে, বাবা বলছে কুরআনের দল, না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে। বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে। আরও ১০ হাজার টাকা পাব। এভাবে বোনাস হিসাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,৫ আগস্টের পর এই ব্যাংক থেকে নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল বিক্রয় করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে। তিনি আরও বলেন, আরেকটি গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এগুলো তদন্ত হবে। সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটির নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে করিয়েছে সেগুলোরও তদন্ত হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন,তকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইনকানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আবার ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা না তাদের সেখানে দেওয়া হয়েছে। আরও তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়। তিনি বলেন,এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তোবা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,যেহেতু দাবি করা হয়েছে যে,এস আলম গ্রুপের লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে, আমরা দাবি করছি মাননীয় স্পিকার, সব অর্থ পাচারের তদন্ত করা হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে করা হোক। যারা বাংলাদেশের টাকা, মানুষের টাকা পাচার করেছে বিদেশে সবার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেন।তিনি বলেন, ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি দলের নির্বাচনি ফান্ডে ফান্ডিং করার কথা বলা হয়েছে। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যদি জামায়াতকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। তিনি এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি মেডেল দেব। কার ছেলে, কার নাতি, কোন কোম্পানি, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, যে কোনো ব্যাংক থেকে অসততার মাধ্যমে টাকা যদি আত্মসাৎ করে থাকে, তার ব্যাপারে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি শফিকুর রহমান হলে আমাকেও যেন স্পেয়ার করা না হয়।সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক যদি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সাথে বসে যাবে। আস্থা একটা পিরামিড। এই পিরামিড হেলে পড়লে অথবা বিধ্বস্ত হয়ে গেলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরেই মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে এবং এই অনাস্থা বাংলাদেশের জন্য কোনো ভালো বার্তা বয়ে আনবে না। যারা রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠান, তাদের মধ্যেও এখন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আরডিএস প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মেরও নয়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখান থেকে বেনিফিশিয়ারি। এখানে দল বা ধর্ম দেখা হয় না। এখানে টার্গেট গ্রুপকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ১১ হাজার কোটি টাকার একটা রেফারেন্স দিয়েছেন। কে নিয়েছে? আমি? আমার সহকর্মীরা? যদি এরকম হয়, দলের ফান্ডে যদি এক টাকাও আসে, আমি বলব, সার্চলাইট দিয়ে এটা তালাশ করে আমাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, এখন যদি অদক্ষ লোকদের দিয়ে এই ব্যাংক পরিচালনা করা হয়, যা আছে তাও শেষ হয়ে যাবে, উধাও হয়ে যাবে। আমাদের উদ্বেগটা এই জায়গায়। তখন (আওয়ামী লীগ আমলে) যখন এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল, মাত্র চার দিনে ওখানে ৭০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে মানুষ উত্তোলন করে ফেলেছিল। আমরা অনুরোধ জানিয়েছিলাম, একজন গ্রাহক হিসাবে, ছোট্ট একজন মালিক হিসাবে, একটু ধৈর্য ধরো, ব্যাংকটাকে বাঁচতে দাও। থেমে গিয়েছিল। এখন কী সমস্যার কথা বলব? তিনি বলেন, এজন্য আপনার মাধ্যমে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব, বিষয়টি তিনি যেন সিরিয়াসলি ভাবেন। কোনো পূর্ব ধারণা থেকে নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে এই ব্যাংকটাকে বাঁচাতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ব্যাংক বাঁচলে তার আগের জায়গায় ফিরে এলে, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার ওপর মানুষের আস্থা আবার ফিরে আসবে।
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে যে টাকাগুলো বের হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী কোনো রকমে জড়িত নয়। উনি চ্যালেঞ্জ করেছেন, গোল্ড মেডেলও দিবেন বলেছেন। এই দাবিটা কিন্তু সালমান এফ রহমানও করতে পারেন। এই দাবিটা এস আলমও করতে পারেন, কারণ তারা তো নিজের নামে কেউ টাকা নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রশ্নগুলোর উদ্রেগ হয়েছে। বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি কী পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে।
জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে খুবই সেইফ। একেবারে নিশ্চিত থাকতে পারেন। আমার অনুরোধ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। প্রতিটি জায়গায় এ ধরনের ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে রাজনৈতিকভাবে আপনারা খুব বেশি লাভবান হবেন না। ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে বলেছে তদন্তে কিছুই পাওয়া যায়নি। একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনো ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়-এর কোনো নজির নেই। দুনিয়ার কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান কে, গ্রাহক ধার ধারে না। গ্রাহক ধার ধারে তার ইন্টারেস্ট সে ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা, সে টাকাটা ফেরত পাবে কিনা এবং আস্থা আছে কিনা। চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনো ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিশ্বে কোনো নজির নেই। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পেছনে কিছু ব্যাপার আছে। ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে উগ্রভাগ উগ্র মিছিল এবং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ব্যাংকটিকে ঘিরে যে সুবিধাবাদী রাজনীতিতে অর্থায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে এটা শুধু ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, এটা রাজনীতির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। মন্ত্রী বলেন, পুরো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টির জন্য। আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।