হাসিনার প্লট দুর্নীতি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের প্লট দুর্নীতি। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, হাসিনা পরিবারের ৬০ কাঠা প্লট।’ এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিজের ও তার পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়।বুধবার আলোচিত প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। এ সময় বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ সংক্রান্ত দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর গণমাধ্যমই প্রথম জনসমক্ষে নিয়ে আসে। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে প্রথম এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়।
আদালত আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি মামলা করা হয়। এতে আসামি হিসাবে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়াও হাসিনার বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে আসামি করা হয়।এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেকে অসহায় এবং নিঃস্ব বলে সভা-সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেও শেখ হাসিনা নিজে ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকে রাউজকের পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। পূর্বাচলের প্রস্তাবিত কূটনৈতিক জোনের ২৭ নম্বর সেক্টরে ২০৩ নম্বর রোডে শেখ হাসিনার প্লট নম্বর ০০৯। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট তার নামে এ সংক্রান্ত বরাদ্দপত্র ইস্যু করে রাজউক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাসিনা ছাড়াও ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (জয়) ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)। তাদের প্লট নম্বর যথাক্রমে ০১৫ ও ০১৭। এর মধ্যে জয়ের নামে প্লটের বরাদ্দপত্র জারি করা হয় ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর। ২ নভেম্বর পুতুলের নামেও ১০ কাঠা প্লটের বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়।তবে শুধু হাসিনা ও তার ছেলেমেয়ে নন; পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে প্লট নেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার ছেলেমেয়ে। তাদের নামেও যথারীতি প্লট বরাদ্দ করা হয় ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডের একই জায়গায়। সেখানে শেখ রেহানার প্লট নম্বর ০১৩। এছাড়া তার ছেলে রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১১ ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের প্লট নম্বর ০১৯। বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে রেজিস্ট্রির পর সব প্লট একত্রিত করে চারদিকে উঁচু সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়।