অবৈধ সম্পদ অর্জন, টেন্ডার বাণিজ্য সহ নানান অভিযোগ রংপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মুসার বিরুদ্ধে - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
অবৈধ সম্পদ অর্জন, টেন্ডার বাণিজ্য সহ নানান অভিযোগ রংপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মুসার বিরুদ্ধে গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদারকে নিয়ে ষড়যন্ত্র দল-মতের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্য লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর ঘোষণা উজিরপুর উপজেলায় এনসিপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা হিজলায় জামায়াতের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়ন সদস্যদের মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলন ঘিরে চাঞ্চল্য, ‘প্রতিরোধ আন্দোলনের’ সংবাদ সম্মেলন পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন7

অবৈধ সম্পদ অর্জন, টেন্ডার বাণিজ্য সহ নানান অভিযোগ রংপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মুসার বিরুদ্ধে


এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া :স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) রংপুরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হলেন মোঃ মুসা। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

রংপুরে যোগদানের পূর্বে মোঃ মুসা দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে বর্তমান কর্মস্থল এবং পূর্ববর্তী কর্মস্থল সংক্রান্ত যে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে:

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার: রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার ও প্রকল্প বাণিজ্য: ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অনিয়ম: দিনাজপুর অঞ্চলের বীরগঞ্জ ও পার্বতীপুরে উপজেলা প্রকৌশলী থাকাকালীন গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার, এডিপি (ADP) ও টেস্ট রিলিফ (TR) প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক দুর্নীতির প্রাথমিক অভিযোগ জমা হয়েছে।

দুদক বর্তমানে তার এই বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের উৎস এবং প্রকল্পভিত্তিক অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর লালমাটিয়ার ব্লক-এ এলাকার ৬/৪ ও ৬/১১ নম্বর মমনেট বিল্ডিংয়ের লিফটের চতুর্থ তলায় ৪-এ নম্বর ফ্ল্যাটে প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন মো. মুসা। ফ্ল্যাটটির মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মো. মুসা জানান, ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছেন। তবে কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন কিংবা ঋণটি কার নামে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।

২০২৪ সালের ১ আগস্ট রংপুর এলজিইডিতে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, সেতু নির্মাণ ও সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঠিকাদারদের একটি অংশের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কয়েকজনের দাবি, কিছু প্রকল্পে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন লেনদেনের প্রচলন রয়েছে। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকল্পেও মো. মুসার বিরুদ্ধে একই ধরনের পার্সেন্টেজ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২৫ সালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হরিনাবাড়ী বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রকল্পের কাজের মান, প্রকৌশলগত তদারকি এবং বিল ছাড়ের বিষয়ে তৎকালীন রংপুর বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পটি যথাযথভাবে যাচাই না করেই বিল ছাড় করা হয়। ডিজিটালঅভিধান খুঁজুন

এদিকে, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আখতার হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে মো. মুসা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও পদায়নের সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর সহকারী প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রংপুরে যোগ দেন।

এছাড়া Municipal Governance and Services Project (MGSP)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অর্থের অনিয়মের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আখতার হোসেনের নিয়োগ, বদলি ও কমিশন বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মো. মুসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে পিরোজপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। ওই বিষয়ে মো. মুসার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ারিংকোর্স করুন

অন্যদিকে, সাড়ে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট কেনা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মো. মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফ্ল্যাটের বিষয়ে ব্যাংক ঋণের কথা বললেও বিস্তারিত তথ্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে করা একাধিক প্রশ্নেরও তিনি সন্তোষজনক জবাব দেননি।

এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একাধিক প্রশ্নেরও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

অভিযোগগুলো সত্য হলে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য, ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উৎস এবং সরকারি প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

তার নিজ এলাকায় একাধিক ব‍্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত ছিলেন তার পরিবার।তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য। তিনি নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন।বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে। একথা গুলো তাদের নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব‍্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বলেন জানান তারা।

নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে একজন কর্মকর্তা বলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) রংপুরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হলেন মোঃ মুসা আসার সাথে সাথে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন যে সকল ঠিকাদার। তারা সবাই ভালো আছেন কাজ পেয়েছেন। টাকার বিনিময়ে তদবিরের মাধ্যমে ।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বসে তারা সেখানে বসেই অবৈধভাবে অর্থ নিচ্ছে রক্ষক যখন বক্ষকের ভুমিকায় ।অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন এটি কোন ছোট্ট অপরাধ নয়।দুর্নীতি কখনো ছোট বড় নয় দুর্নীতি তো দুর্নীতিই সেটি যেমনই হোক। ছোট বড় দুর্নীতিতো দুর্নীতিই জন্ম দেয়। দুদক আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুদকের দুর্নীতির বিষয়ে আর বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কেননা যে তুলনায় দুর্নীতির অভিযোগ আসে সেই তুলনায় দুদক অনুসন্ধান করতে পারে না। যদি সকল দুর্নীতি দুদক অনুসন্ধান করতে পারতো তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসত। তবে আমরা আশাবাদী দুর্নীতিবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব সেটি একদিন হবেই।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান
বলেন,আমরা অনেক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বসে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেছেন কিছু বড় কর্মকর্তা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) রংপুরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী হলেন মোঃ মুসা বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না ।অভিযোগ পেলে সেটা তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগব‍‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যারাই অপরাধ করুক না কেন আমাদের অনুসন্ধানে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয়।তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং প্রয়োজনীয় যত ব্যবস্থা আছে তা নেব। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Top