ফেরত আনা হচ্ছে ৪২ ঋণখেলাপির পাচার করা সম্পদ - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেরত আনা হচ্ছে ৪২ ঋণখেলাপির পাচার করা সম্পদ


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন :ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত ৪২টি প্রতিষ্ঠানের পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো।বিদেশে নামে-বেনামে থাকা সম্পদ উদ্ধার করে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।রোববার ওইসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেখানে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থিত দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এজন্য আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করছে ব্যাংকগুলো।বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিকালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশে সম্পদ উদ্ধারে যেসব ব্যাংক এখনো ওই আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেনি, তাদের দ্রুত তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে। এখন নতুন করে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধার করে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের এ কার্যক্রমে কোনো ব্যাংককে অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে সম্পদ অনুসন্ধান করবে। উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসাবে তাদের দিতে হবে। শেখ হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ তদন্ত দল গঠন করে তাদের দেশে ও বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। শিল্প গ্রুপ হলো-এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ প্রভৃতি।এবার দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) ডাটাবেজ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেওয়া হয়। সিআইবির তথ্য অনুসারে, ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে, এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিদেশে সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।রোববারের সভা সূত্রে জানা গেছে, যেসব শিল্পগোষ্ঠীর ৪২টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এসবি এক্সিম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, ইয়াসীর গ্রুপ, এডব্লিউআর গ্রুপ, লিবার্টি গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, লস্কর গ্রুপ, সাদ মুসা গ্রুপ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশে পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আটটি বড় বিদেশি সংস্থাকে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত আট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হলো-গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে-যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এ ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এসব দেশ থেকে পাচারের অর্থ-সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববারের সভার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং এর আর্থিক পরিমাণ শনাক্তে কাজ করছে। সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে তা জব্দ করার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ বিক্রয় বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন পাচার করা জাতীয় সম্পদ উদ্ধার হবে, পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় করা সম্ভব হবে।

Top