আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
৭১ ও ২৪-কে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতার মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি, প্রতিবাদে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল বরিশাল চরকরনজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি ! জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন গণআন্দোলনের আশঙ্কা প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি শিল্পকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার নিন্দা ১১ দলের

আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না


স্টাফ রিপোর্টার:আলিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ছাত্রদল সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত ডা. শফিকুর রহমান এমপি।এ সময় তিনি আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন।
আলিফ চৌধুরী ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক এবং হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বুধবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হলেও গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে সক্ষম হননি। বর্তমানে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় আমি পুনরায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, যারা এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না। জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না, বরদাশতও করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশেও এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই সরকার এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে মামলা দায়ের করতেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। বহু চেষ্টা-তদবিরের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু যদি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতেই সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কীভাবে তৈরি হবে?রাজনীতি বিশ্লেষণ

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তার রক্ষক। কিন্তু যদি তারা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের উদ্বেগ বাড়বে। আমরা ব্যর্থতার ব্যাখ্যা শুনতে চাই না; আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। সরকারকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে যে এই দেশ সকল নাগরিকের এবং আইন সবার জন্য সমান।তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যদি সরকারের ভেতর থেকেই বলা হয় যে দুর্নীতি বেড়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি, তাহলে জনগণের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কীভাবে? জনগণ অজুহাত নয়, কার্যকর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আহত আলিফের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ছেলেটি কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি। বরং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, নিন্দনীয় এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কারও ওপর হামলা হবে না। এখন পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—সরকার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীদের গাড়িবহরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আলিফ চৌধুরী চোখে রডের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা আমির আব্দুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) নেতা ডা. হাসান আল বান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ উপস্থিত ছিলেন।

Top