শপথ নিলেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। তাদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। বিএনপির সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়াল। এতে নতুন করে তিনজন মন্ত্রীর পাশাপাশি দুজন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছে সরকার। আর পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান। সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে পাঁচজন যুক্ত হলেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ বাদ পড়েননি। এদিকে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাদের নেতাকর্মীরা।
নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা হলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি ড. আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন।আর প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
শুক্রবার রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত মন্ত্রীদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের প্রজ্ঞাপন হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলে মির্জা ফখরুলের ছেড়ে আসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন আবদুল মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ,পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাচিং প্রু জেরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত,ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকন ও পররাষ্ট্রে হুমায়ুন কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।এছাড়া বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) অন্য একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।একটি সূত্রের দাবি,তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খান বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবেও পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায়ই বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন ড. খান।
অপর মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুর বড় ছেলে। লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দেশে ফিরে আইন পেশা ও রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের একজন শক্তিশালী বক্তা হিসাবে পরিচিতি পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তার বাগ্মিতা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কারণে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া এম. রশিদুজ্জমান মিল্লাত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিএনপি নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
সাচিং প্রু জেরীর বাবা বোমাং সার্কেলের চিফ অংশৈ প্রু চৌধুরীও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে খাদ্য, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে এবার মন্ত্রী হলেন।১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সংসদ-সদস্য হন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবিরের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে। শৈশবেই তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবাসী হন। হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক বিষয়ে তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পরিচিত তিনি।দীর্ঘদিন পর প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন গাইবান্ধাবাসী। এ জেলার বিএনপির সংসদ-সদস্য শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততার কারণে তার পরিচিতি রয়েছে।