উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে
স্টাফ রিপোর্টার : ভুমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মামলায় উজিরপুরের তিন জমি দখলকারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেছেন সিনিয়ররজুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক।
২৩ জুলাই বিচারক উজিরপুর আমলী আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে বিচারক আসামী মাছুম সরদার,গোলাম কাদের সরদার ও সোহান সরদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরেনে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের ডাঃ আলতাফ মাহমুদের জমি অবৈধভাবে ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর জোরপুর্বক দখল করে।
এ ব্যাপারে ডাঃ আলতাফ আদালতে মাহমুদ মাছুম সরদার,গোলাম কাদের সরদার ও সোহান সরদারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।আদালত তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।তদন্তে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমানিত হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ প্রদান করেন। আসামীরা বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে বিচারক তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন।
মামলার বিবরেনে উল্লেখ করা হয়,
আসামীরা মানুষদের জায়গা জমি জবর দখল করে তাদের সর্বস্ব লুন্ঠন করাই আসামীদের নেশা ও পেশা বটে! আসামীগন পরস্পর পিতা পুত্র বটে। পক্ষান্তরে, নালিশকারী দরখাস্তকারী একজন নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় লোক বটে। দীর্ঘ দিন বরিশাল ডায়েবেটিকস ও জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ডায়াবেটোলজিস্ট হিসাবে সুনামের সহিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।
তফসিল ভূক্ত সম্পত্তি নালিশকারী পক্ষ তফসিল বর্নিত সম্পত্তিা কাছেই ডাঃ আলতাফ মাহমুদ নামীয় হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিম খানা এবং লিল্লাহ বোর্ডিং স্থাপন করেন। বাদীর অনুপস্থিতিতে যাহাতে উক্ত প্রতিষ্ঠান ভালো ভাবে চলতে পারে সেই পরিকল্পনায় তফসিল সম্পত্তি ক্রয় করে তাহাতে একটি পুকুর খনন করে তাহার মাছ বিক্রি করিয়া অথবা মাছ চাষ করিয়া যাহাতে ছাত্রগন খেতে পারে এবং ছাত্রদের কোন অসুবিধা না হয় সেই চিন্তায় বিগত ইং ১৩/০৭/২০২৫ তারিখের ২১১৪/২০২৫ নং দলিল মূলে ৮,২৭ এবং বিগত ইং ২৫/০৫/২০২৫ তারিখের ১৫৪৭/২৫ নং সাফকবলা
দলিল মুলে ৭.১০ শতাংশ একুনে ১৫.৩৭ শতাংশ সম্পত্তি মালিক ও দখিলকার নিযুক্ত থাকিয়া নিজ নামে নামজারী ২৫-৮৪৫ নং খতিয়ান খুলিয়া সরকার বাহাদুরের খাজনাদি পরিশোধ করিয়া ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। উক্ত সম্পত্তি দাতাগন বাদীকে ৩৪২ নং দাগ থেকে ভোগ দখল বুঝাইয়া দেন। যাহা দলিলে উল্লেখ আছে। উক্ত সম্পত্তি আসামীরা কিছু দিন যাবৎ অন্যায় ও অবৈধ ভাবে জবর দখল করার পায়তারা করিয়া আসিতেছে এবং বাদী পক্ষের লোকজনদের কে বিভিন্ন রকমের হুমকি ধামকি সহ খুন জখমের পায়তারা করিতেছে এবং কিছু দিন পূর্বে বাদীর আপন ভাইকে মারাত্মক খুন জখমের হুমকি সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করিলে তাহাতে বাদী সংশ্লিষ্ট উজিরপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। যাহার সাধারন ডায়েরী নং-১৫১১, তারিখ-২৮/১১/২০২৫ ইং । তাহাতে আসামীগন বাদীর ‘উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষতিসাধন করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে।।
ঘটনার দিন, তারিখ ও সময় অর্থাৎ বিগত ২৯/১১/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ রোজ শনিবার
অনুমান ৩.০০ ঘটিকার সময় আসামীরা সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়া নিম্ন তফসিল ভুক্ত সম্পত্তিতে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া সাবল, কোদাল নিয়া অন্যায় ও অবৈধ ও বে-আইনী জনতাবদ্ধে অনাধিকার প্রবেশ করিয়া বাদীর মালিকানা ও ভোগ দখলাধীন সম্পত্তিতে ভোগ দখলে বাধা প্রদান করিয়া তাহাতে বাদীর সিমানা পিলার উপরাইয়া ভাঙ্গিয়া ফেলে এবং বাদীর সম্পত্তিতে থাকা সাইনবোর্ড ভেঙ্গেচুরে পাশ্ববর্তী খালে ফালাইয়া দিয়া (স্থিরচিত্র সংযুক্ত) আসামী পক্ষ কাফুলা গাছের ডাল দিয়া চারদিকে বেড়া দেয় এবং অস্ত্র হাতে হুংকার দিয়া বাদীর নিম্ন তফসিল ভূক্ত সম্পত্তি অন্যায় ও বে-আইনী ভাবে আসামীদের মালিকানাধীন বলিয়া প্রচার ও প্রকাশ করে। আসামীদের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করিলে আসামীরা বাদী ও স্বাক্ষীদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে বাদী পক্ষের ডাক চিৎকার করিলে স্বাক্ষীরা সহ বহু অন্যান্য লোকজন আগাইয়া আসিলে আসামীরা দ্রুত ঘটনাস্থল হইতে খুন জখমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া চলিয়া যায়। বাদী থানায় মামলা করিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়া বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। ঘটনার বহু মৌখিক ও দালিলিক স্বাক্ষ্য ও প্রমান আছে। “অত্র সাথে আসামীদের দ্বারা বাদীর সম্পত্তির সিমানা পিলার উপরানোর স্থিরচিত্র, বাদীর সম্পত্তির সাইন বোর্ড, সাইন খালে ফালানোর স্থিরচিত্র এবং বাদীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দাখিল করা হইল।
আদালত উজিরপুর সহকারি কমিশনারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্তে বাদী ডাঃ আলতাফ মাহমুদের আভিযোগের সত্যতা পেযে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এদিকে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলায়ও বাদী ডাঃ আলতাফ মাহমুদ রায় পেয়েছেন।