ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি দুর্নীতির ‘ওএলএম’ সিন্ডিকেট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি দপ্তরে রাতভর চলে অনৈতিক কারবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে পাচারের অর্থ উদ্ধারে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে হোঁচট বেনামি ঋণ ১৩১৬৬ কোটি টাকা, গুপ্ত হয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করা বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা নুরুল আমিন দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এমন ক... ববিতে অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ৫ ঘণ্টা র‌্যাগিং প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন,প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন আমলা এখনো জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন-এমন অভিযোগ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পরও তারা নিজেদের অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এসব কর্মকর্তা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশ নতুন সরকারের সঙ্গেও দ্রুত সখ্য গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ বঞ্চিতদের। একারণে জিয়ার আদর্শের কর্মকর্তাদের প্রশাসন থেকে দুরে সরে রাখা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে না তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখনো এসব কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে। তাদের পছন্দ ও সুপারিশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শহীদ জিয়া ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া এবং বিএনপির আর্দশের একজন কর্মকর্তারা প্রশাসনে নেই। সরকারের বড় ধরনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে গুপ্ত এসব কর্মকর্তারা মুখফিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জনপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা কেবল রাজনৈতিক সরকারের জন্য নয়, রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য। যদি কোনো কর্মকর্তা অতীতে কোনো সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকেন, তবে সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার শুধুমাত্র অতীত কর্মস্থল বা পদায়নের ভিত্তিতে কাউকে পক্ষপাতদুষ্ট বলাও সমানভাবে অন্যায় হতে পারে। এ কারণেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যে কোনো সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই রয়েছে বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে কাক্সিক্ষত সংস্কার ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হলেও, জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। অতীত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সুবিধা পাওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন বিএনপি সরকারের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সরবরাহ করা তালিকা ধরেই নতুন বিএনপি সরকারের শুরুতেই যেসব জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে-তাদের অধিকাংশই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগত। সিলেট,রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলায় নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিষয়ে যথাযথ গোয়েন্দা তথ্য না নিয়ে সুযোগ সন্ধানী আমলাদের ইচ্ছায় তাদের নিয়েগে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে সিলেট জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই তারাই ঘুরে ফিরে বর্তমান প্রশাসনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। জনপ্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে তাদের অবস্থান শক্ত অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন। অথচ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগকে প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখান থেকেই মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, এই উইংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অতীত ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে যাঁরা নিয়মিত পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় পদায়নের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদেরই কেউ কেউ এখনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দক্ষতা এবং জনআস্থা রক্ষায় পদোন্নতি ও পদায়নের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একই ধরনের প্রশ্ন ও অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তবে তা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে এপিডি উইংয়ের নেতৃত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব (বিসিএস প্রশাসন-২০ ব্যাচ) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়মিত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের সুবিধা পেয়েছিলেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পযটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ আতাহারুল ইসলামের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বঞ্চিতদের অভিযোগ, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পাশপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি এপিডি উইংয়ে তার পদায়ন নিয়ে শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে সরাসরি ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে বিতর্কিত হিসেবে আলোচিত কোনো কর্মকর্তাকে কেন প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুবিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যখন একই ব্যাচের আরও যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তারা রয়েছেন। তখন টক অব দ্য প্রশাসনে পরিণত হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে-এসব ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী আমলাদের অসহযোগিতার কারণে অনেকক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে না। বাছাইকৃত ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তালিকা বার বার চাওয়া হলেও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না। কৌশলে অন্য কর্মকর্তাদের নাম পাঠানো হয়। এমন ঘটনা বিশেষ তথ্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারায় সংশ্লিষ্টদের ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রশাসন ঢেলে সাজানো সম্ভব হবে না বলে বঞ্চিতরা মনে করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা মেধা তালিকায় প্রথমার্ধে থাকলেও তাদেরকে বিবেচনায় আনা হয়নি। বছরের পর বছর জুনিয়রের অধীনে কাজ করতে হয়েছে। অথচ ক্ষমতা পালা বদলের পর ভুতাপেক্ষ পদোন্নতির পাশপাশি পদোন্নতি পাবেন বলে প্রত্যাশাও জেগেছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু গুপ্ত ও সুবিধাভোগী আমলাদের কারণে পদে পদে তারা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তাদের কাছে তথ্য আছে-প্রধানমন্ত্রী বারবার বঞ্চিত কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়েছেন। কিন্তু সেখানে প্রকৃত তালিকার পরিবর্তে অন্যদের নাম পাঠানো হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না বলেও তারা দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ভুমিকা নিয়েও আলোচনা সমালোচনা কম নেই। একটি বিশেষায়িত ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হওয়ায় সেই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য বাড়তে থাকে। একে একে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে তার ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন শুরু হয়। জেলা প্রশাসক, সচিবসহ অন্যান্য পদেও তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অথচ এই কর্মকর্তা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জনপ্রশাসনে এপিডি উইংয়ে থাকাকালে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগত হয়ে কাজ করেছিলেন। ওই বিশেষ দলের দেওয়া তালিকা বাস্তবায়নে তৎকালিন এপিডি উইং প্রধানের আজ্ঞাবহ হয়েছিলেন। তখন সেই দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে ভেবে অনেকটা প্রকাশ্য হয়ে কাজ করতেন বলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে অনেকেই জানেন। কিন্তু পরবর্তীতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর পরই তার ভোলপাল্টে যায়। রাতারাতি হয়ে ওঠেন বিএনপি সমর্থক কট্টর আমলা। বিদেশে থাকা বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের সাথে গড়ে তোলেন গভীর সখ্যতা। এরপর তার পদায়ন হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে। শুধু তাই নয়, এক সময় জনপ্রশাসনে কাজ করা তারই অনুগতদের তার কর্মস্থলে রাতারাতি পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে নেন। এই কর্মকর্তা প্রশাসনে পদোন্নতি ও পদায়নে বিশেষ ভুমিকা রাখেন বলে প্রশাসনে আলোচনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি বিশেষ দলের অনুগত হয়ে কাজ করা এই কর্মকর্তাকে অনেকেই ‘গুপ্ত’ বলে অভিহিত করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। তোদের কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে (গুপ্ত) কেন রাখতে হবে।

এবিষয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে গুলো বাস্তবায়ন করে কে। প্রশাসনের মূল শক্তি হলো তার নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি। সরকার পরিবর্তনের পর কোনো কর্মকর্তাকে শুধু অতীত সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করেছেন-এই কারণেই অভিযুক্ত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অতীতের অভিযোগ বা বিতর্ক উপেক্ষা করাও উচিত নয়। যদি পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো একটি স্বচ্ছ, নথিভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। কে কোন সরকারের সময় কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি আইন, বিধি ও প্রশাসনিক নীতিমালা অনুসরণ করেছেন কি না। তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে পদায়ন, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে একমাত্র মানদ- হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে যেমন নির্দোষ কর্মকর্তারা অযথা বিতর্ক থেকে মুক্ত থাকবেন, তেমনি প্রকৃত অনিয়ম থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

Top