শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে গুজব-অপপ্রচার,নেপথ্যে নিষিদ্ধ আ.লীগ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ, পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি এবং শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ করে আন্দোলনে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা।শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, অসঙ্গতিপূর্ণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে পূর্ণ নম্বর (মূল্যায়ন) দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।এর পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে-আন্দোলনের নেপথ্যে কি অন্য কোনো পক্ষ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে? তবে এর মধ্যে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী নেতাকর্মীরা। আন্দোলনের শুরু থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার দেখা গেছে। ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনের পোস্ট, ভিডিও ও কথিত ফটোকার্ড। এর মধ্যে একটি ভাইরাল ভিডিওতে এক তরুণীকে বলতে শোনা যায়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চান, একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও ওই তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ ওঠে, বহিরাগত কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করে আন্দোলনের গতিপথ ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে কিছু কথিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেন। অথচ সেটি ছিল একেবারেই ভুয়া। মূলত এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে পুরোনো ভিডিও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে পুনরায় প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। ইতোমধ্যে ভোলায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকের মতে, এ ধরনের কনটেন্ট আন্দোলন ঘিরে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে আন্দোলন দমনে ছাত্রদল মাঠে নেমেছে-এমন দাবিতে একাধিক কথিত ফটোকার্ডও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলি চালানো কিংবা সায়েন্সল্যাবে দুজন নিহত হওয়ার মতো দাবিও বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করা হয়। তবে এসব দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক তথ্য ভুয়া বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এ বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল অভিযোগ করেন,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে জড়িয়ে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।আন্দোলনের নামে সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা,ভুয়া পরিচয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিযোগসহ কয়েকটি ঘটনার সঙ্গেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।তিনি বলেন,এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করা এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।তবে তারা সফল হতে পারেনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,অতিবর্ষণ ও বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।তাই পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি যৌক্তিক।পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জানান।তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন,আন্দোলনে কোনো ‘ফ্যাসিস্ট’ গোষ্ঠী বা অন্য কোনো পক্ষ অনুপ্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিনা,তা খতিয়ে দেখা গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব।এদিকে ভোলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বুধবার ভোরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ শাহীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের সমন্বিত দল। জেলা শহরের মুসলিমপাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।