নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী বিরুদ্ধে
এবি সিদ্দীক ভুইয়া:সিন্ডিকেট গঠন, বদলি বাণিজ্য এবং অনিয়মের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে অর্থ গ্রহণ সহ একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী-এর বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে যারাই এই পদে এসেছেন, তারাই এটিকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে এই সংস্থায় অনিয়মের সুযোগ আরও বেড়ে যায়। চতুর ও সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা এই সুযোগের পুরো ফায়দা তোলেন। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই সময়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদীও সেই সুযোগ গ্রহণ করেন । আর তিনি দায়িত্বে বসার পর থেকেই শুরু হয় বদলি বাণিজ্য।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো:তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন,বদলি বাণিজ্য ও ঠিকাদারকে অর্থের বিনিময়ে কাজ দেয়া সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে সরাসরি বড় কোনো দুর্নীতির প্রমাণ না মেলেও হাত গুরিয়ে খেতে পছন্দ করেন তিনি। অর্থাৎ সরাসরি না নিয়ে নিচের চেয়ারের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিতে পছন্দ করেন বলে একটি সুত্রের দাবি।
তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন অধিদপ্তরে বিভিন্ন নিয়োগ ও নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে ।এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণ এই দুর্নীতির সাথে সরাসরি জরিত না হয়ে গোপনীয়তার মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে একটি সুত্র দাবী করেছেন তাই এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিরুদ্ধে যেসব বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে,তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে কর্মরত একজন সাধারণ কর্মচারী জসিমের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে । এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন । কারণ তার থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগে অনিয়ম: সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ৪ জন সহকারী প্রকৌশলী জড়িত থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও, এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
দীর্ঘসূত্রিতা ও নিম্নমানের কাজ: বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য ৯ মাস সময় নির্ধারণ করা থাকলেও, চার বছরেও অনেক কাজ শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থের বেশিরভাগ পরিশোধ করা হলেও কাজ হয়েছে নিম্নমানের। এসব দুর্নীতির তদন্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছিল কিন্তু সেই চিঠির উত্তরও উপযুক্ত তথ্য নেই বলে এটি সুত্রের দাবি।
দুদক ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তদন্ত: অতীতের বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট এখনও অধিদপ্তরে সক্রিয় বলে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক ঠিকাদার ও কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তাধীন রয়েছেন কিন্তু অর্থের কাছে নতি শিকার করে আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবেদন।
অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,এই উদ্দেশ্যমূলক বদলির কারণে পুরো দপ্তরের কর্মকর্তারা এখন তিনটি আলাদা দলে ভাগ হয়ে গেছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- এই চেয়ারগুলোতে বসানোর নাম করে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদীও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসায় অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে, তড়িঘড়ি করে শতকোটি টাকার এই বদলি বাণিজ্য করা হয়। মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলে, এই সিন্ডিকেটের আসল রূপ ও লেনদেনের গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলছেন দফতরের একাধিক প্রকৌশলী।
এদিকে,রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নিজের চেয়ার বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী। যেকোনো উপায়ে এই শীর্ষ পদে টিকে থাকতে এই সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের দফতরে তিনি নিয়মিত যাতায়াত ও তদবির চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তার নিজ এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন,আওয়ামী লীগের সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত ছিলেন তার পরিবার।তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য। তিনি নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন।বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে। একথা গুলো তাদের নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বলেন জানান তারা।
নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে একজন কর্মকর্তা বলেন,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী আসার সাথে সাথে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তারা সবাই ভালো স্থানে বদলি হয়েছেন টাকার বিনিময়ে তদবিরের মাধ্যমে ।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন,সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বসে তারা সেখানে বসেই অবৈধভাবে অর্থ নিচ্ছে রক্ষক যখন বক্ষকের ভুমিকায় ।অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন এটি কোন ছোট্ট অপরাধ নয়।দুর্নীতি কখনো ছোট বড় নয় দুর্নীতি তো দুর্নীতিই সেটি যেমনই হোক। ছোট বড় দুর্নীতিতো দুর্নীতিই জন্ম দেয়। দুদক আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুদকের দুর্নীতির বিষয়ে আর বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কেননা যে তুলনায় দুর্নীতির অভিযোগ আসে সেই তুলনায় দুদক অনুসন্ধান করতে পারে না। যদি সকল দুর্নীতি দুদক অনুসন্ধান করতে পারতো তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসত। তবে আমরা আশাবাদী দুর্নীতিবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব সেটি একদিন হবেই।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তাবলেন,আমরা অনেক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বসে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেছেন কিছু বড় কর্মকর্তা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদীর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না ।অভিযোগ পেলে সেটা তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যারাই অপরাধ করুক না কেন আমাদের অনুসন্ধানে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয়।তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং প্রয়োজনীয় যত ব্যবস্থা আছে তা নেব। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: তারেক আনোয়ার জাহেদী সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়গুলো লিখে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।