আসামিদের ৪৪ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, অবরুদ্ধ
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:আদালতের ৪৬৭টি আদেশে দেশে-বিদেশে মামলার আসামিদের এসব সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। দুদক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন মামলায় ৪৪ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।সম্প্রতি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছর আট মাসের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। পরিসংখ্যানে বলা হয়, ওই সময়ে চার হাজার ১২ আসামির বিরুদ্ধে ৮৬১টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে ৬১৪টি মামলায়। আদালতের ৪৬৭টি আদেশে দেশের ভেতরে আট হাজার ৯১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ৩২ হাজার ৪৮ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করতে আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠিয়েছে দুদক। পরে ওই সব দেশ দুই হাজার ৯৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ৩৬৬ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করেছে। সম্পদগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশগুলোতে চিঠি চালাচালি করা হচ্ছে।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে ক্রোক, অবরুদ্ধ সম্পদের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে দেখভাল করতে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর ওই সব সম্পদের মালিকানাও চূড়ান্ত হবে। রাষ্ট্রের অনুকূলে রায় দেওয়া সম্পদগুলো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, কেম্যান আইল্যান্ডসহ আরও কিছু দেশে সম্পদ পাচার করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই এক বছর আট মাসে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, আমলা, ব্যবসায়ীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১৪৪টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় ৪৪৯ জনকে। এই সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ১৪৬টি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দুই হাজার ৮৭২ আসামির বিরুদ্ধে ৫৯৪টি মামলা করা হয়। ৪১৩টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৬৯১ আসামির বিরুদ্ধে ১২৩টি মামলা করা হয়। এই সময়ে ৫৫টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
দেশে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদ
দুদকের আবেদন অনুযায়ী, আদালত থেকে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে– ৭১২৫.৮৬ একর জমি, ১০০টি বাড়ি, ২৭২টি ফ্ল্যাট, ৭৮টি ভবন, ৮৯টি প্লট, ১৮টি দোকান, ৪৭৪টি গাড়ি, একটি ট্রাক, তিনটি জাহাজ, ছয়টি বাণিজ্যিক স্পেস, একটি অফিস স্পেস, তিনটি কোম্পানি, ৫২টি বাণিজ্যিক সংগঠন, একটি পার্ক, তিনটি টিনশেড ঘর, একটি পুকুর, একটি খেলার মাঠ, একটি স্কুলসহ অন্যান্য সম্পদ।
দেশে অবরুদ্ধ অস্থাবর সম্পদ
আট হাজার ৬৫২টি ব্যাংক হিসাব, ৪৮টি সঞ্চয়পত্র, এক হাজার ৭৮ কোটি ১২ লাখ ৭৩ হাজার ২৮৮টি শেয়ার, ৪৫টি বিও হিসাব, ৫৩টি এফডিআর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণ, ১৬টি বীমা পলিসি, ডলার, ইউরো, ৩২৬টি পে-অর্ডার, বিনিয়োগ, চলতি হিসাব, প্রাইজবন্ড, ৯টি ক্রেডিট কার্ড, দুটি এমএসডি, একটি এসবি, চারটি মেয়াদি আমানতসহ অন্যান্য সম্পদ।
বিদেশে ক্রোক করা স্থাবর সম্পদ
২৩টি কোম্পানি, ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেস ৬৮৩টি, অ্যাপার্টমেন্ট ৩৩টি, বাড়ি দুটি, আটটি গাড়িসহ অন্যান্য সম্পদ।
বিদেশে ক্রোক করা অস্থাবর সম্পদ
দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ, শেয়ারে বিনিয়োগ, কোম্পানি শেয়ার, ইউরো, ব্যবসায় বিনিয়োগ, ১৮টি ব্যাংক হিসাব ইত্যাদি।