সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবে - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ

সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে স্টাডি করে নেবে


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: জাতীয় সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভালোভাবে স্টাডি ও পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহামুদকে পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।এদিকে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান বলেন, বাংলাদেশে কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়। তিনি বলেন, লোডশেডিং হলো ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ না থাকা। বাংলাদেশে এখন বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নে মন্ত্রীর উত্তরের পরে স্পিকার একথা বলেন।

জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা লোডশেডিং বলি, মেরামত শেডিংই বলি, বাস্তবে গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এটাই হলো বাস্তবতা। তিনি বলেন, মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মের মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সরবরাহ পাইনি। আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে তা জানতে চান তিনি।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, এ বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। উনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার উনার ফার্টিলাইজার চালাতে বলছেন। আমাদের গ্যাস সংকট আছে। আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। সেজন্য উনার ওখানে সংযোগ দিতে পারছি না। গ্যাসের অবস্থার উন্নতি হলে দেওয়া হবে।

পরে মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে স্পিকার বলেন, মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ (১ মে) থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে যশোর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল বলেন, গ্রামাঞ্চলে এখনও পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ রয়েছে। জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করেছে। দেশে ৭ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। তিনি বলেন, দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

বিএনপির এমপি খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপন করে সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার অবকাঠামো ব্যবহার অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বৃহৎ/বাল্ক গ্রাহকদের নিকট বিদ্যুৎ বিক্রয় করতে পারবেন। বর্তমানে দেশে ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি ৬৬৫ মেগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান আছে। যা, ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

ঢাকা-১ আসনের খোন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। খুলনা-২ আসনের সংসদ-সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, রামপালের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় এবং সারা দেশে বিতরণ করা হয়। রূপসায় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। ভোলা থেকে গ্যাস এনে সেগুলো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই দুইটা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে আমি আশা করি খুলনাবাসীর বিদ্যুতের অভাব হবে না।

Top