রাব্বি-রাজার দাপটে তছনছ নিয়মনীতি,বিআইডব্লিউটিসিতে আধিপত্য বিস্তার
মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:পতিত আওয়ামী লীগ আমলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ‘সৈনিক’।দাপিয়ে বেড়াতেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এই দুই কর্মকর্তার দৌরাত্ম্য আর আধিপত্য বিস্তারের মহড়ায় নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই আগাম অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইচ্ছেমতো বদলি করে রেখেছেন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভোল পালটে টুকুর ‘সৈনিক’ থেকে হয়ে গেছেন জিয়ার (শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) ‘সৈনিক’। আর দাপটে তটস্থ সরকারের অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার ক্যাডার কর্মকর্তা সংস্থার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে করণিক সবাই।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও নানা চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।নাম তার মো. ফজলে রাব্বি। টুকুর দাপটে নিয়েছেন একের পর এক পদোন্নতি। বাগিয়ে নিয়েছেন চিফ পার্সোনাল ম্যানেজারের (সিপিএম) লোভনীয় পদটিও। নানা কায়দায় নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলির অফুরন্ত ক্ষমতাও নিজের আয়ত্তে নিতে সংস্থার বিধিবিধান তছনছ করেছেন। বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সহযোগী হিসাবে নিজের সঙ্গে রেখেছেন ডেপুটি চিফ পার্সোনাল ম্যানেজার (ডিসিপিএম) রাজা মিয়াকে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিসির সিপিএম পদের এই চেয়ার থেকেই হয় প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ, বদলিসহ পদোন্নতি। এই চেয়ারে বসার পরিকল্পনা ফজলে রাব্বির দীর্ঘদিনের। বাড়ি পাবনায় হওয়ায় আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ওই সুযোগে একের পর এক পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন। ডিসিপিএম রাজা মিয়াকেও প্রভাব বিস্তারে সঙ্গী করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষায় ভোল পালটে বনে গেছেন বিএনপির ‘খাস লোক’। বহিরাগতদের নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের মহড়া চলে মাঝে মধ্যে। তার ইশারায় সংস্থার প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডও প্রায় ভেঙে পড়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিএম মো. ফজলে রাব্বি বুধবার বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মুহূর্তে এর বেশি কথা বলতে পারছি না। পরে কথা হবে। শামসুল হক টুকুর পরিচয়ে আমি দাপট দেখাইনি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অগ্রিম বদলি হয়েছে প্রকৌশল বিভাগের সুপারিশে। একই কথা বলেন সংস্থার ডিসিপিএম রাজা মিয়াও। তবে প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানের সব শাখা থেকে সিপিএমকে লোকবলের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়, এটাই নিয়ম। তাই বলে সিপিএম ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করে ২০২৬-২০২৭ সালের বদলি করবেন এটা কেমন কথা? এ রকম আদেশ নীতি ও বিধিবিধানপরিপন্থি।
চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একই পদে ২ বছরের অধিক থাকার নিয়ম নেই। এ কারণে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর চিফ পার্চেজ অফিসার মানসুরা আহমেদকে সিপিএম পদে বদলি করা হয়। পরে এই আদেশ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ফজলে রাব্বি। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর বহিরাগতদের নিয়ে জিম্মি করা হয় তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহকে। এ সময় হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন বিএনপির নামে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের স্বঘোষিত নেতাদের। এরপর তৎকালীন চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়াই একই দিন মানসুরা আহমেদের বদলির আদেশ বাতিল করানো হয়। তখন থেকে তার দাপট আরও বাড়ে। এমনকি বিএনপি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ফজলে রাব্বি সিপিএম পদে ততদিন থাকবেন-এমন ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন।
অগ্রিম বদলি বাণিজ্য : বিআইডব্লিউটিসির জাহাজী কর্মকর্তাদের বদলি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নজিরবিহীনভাবে অগ্রিম অফিস আদেশ দিয়ে বদলি করে রেখেছেন অর্ধশত কর্মকর্তাকে। প্রতিটি সুবিধাজনক বদলি বা পদায়নের জন্য তার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজি কর্মকর্তাদের (ফেরিচালক ও ইঞ্জিনচালক) কোনো কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হলে তাদের বেইজ (প্রধান কার্যালয় বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে সংযুক্ত করা) করতে হয়। পরে প্রাপ্যতা অনুসারে পদায়ন করার কথা। ফজলে রাব্বি ও রাজা মিয়া এই নিয়ম লঙ্ঘন করে ২০২৪ সালের স্বাক্ষর করা আদেশে ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য ২০ জনকে পদায়ন করে রেখেছেন।
নথিপত্রে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ৬ ইনল্যান্ড জুনিয়র ইঞ্জিন অফিসারকে ২২ মাস আগে বদলির আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে ইনল্যান্ড জুনিয়র ইঞ্জিন অফিসার আব্দুল হামিদের (কোড : ১২২২৪) অবসর-উত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিল। বিধি লঙ্ঘন করে তাকে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাষাশহীদ বরকত রো রো (বড় ফেরি) ফেরিতে পদায়ন করা হয়। একইভাবে মো. কামাল মিয়া ভূঁইয়ার (কোড : ১২২৩৩) অবসরে যাওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। তাকেও অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ইউটিলিটি ফেরি চন্দ্রমল্লিকায় পদায়নের আদেশ জারি করেন। একই আদেশে মো. মাইনুল ইসলাম (কোড : ১২২৭৪) ও মো. শাহজাহানকে (কোড : ১২২৩২) ১০ মাস আগে বদলির আদেশ দেন। এছাড়া মো. নজরুল ইসলাম (কোড : ১২৩১০) ও মো. জিএম আরিফ ইকবালকে (কোড : ১২২৭০) ১১ মাস আগে দায়িত্বভার গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেন। ২০২৫ সালের ৪ জুন ইনল্যান্ড জুনিয়র ইঞ্জিন অফিসার মো. সাইয়েদুর রহমানকে ‘কে ক্যাটাগরির’ ফেরি ‘কলমিলতা’ থেকে নারায়ণগঞ্জ বেইজে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বদলির আদেশ জারি করা হয়। অর্থাৎ ৮ মাস আগে তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। ঠিক একই আদেশে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জ বেইজ থেকে কে-টাইপ ফেরি ‘কলমিলতা’য় বদলি করেন। একই বছর ১৮ জুন আরেক আদেশে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মো. কাওসার আহমেদকে রো-রো (বড় ফেরি) ফেরি ‘শাহ আলী’ থেকে ইম্প্রুভড মিডিয়াম ফেরি ‘চিত্রা’য় এবং মো. ছগির হোসেনকে ‘চিত্রা’ ফেরি থেকে নারায়ণগঞ্জ বেইজে ৮ মাস আগে বদলির আদেশ জারি করা হয়। ২৫ জুন চারজন কর্মকর্তাকে একযোগে চক্রাকারে বদলি করা হয়। মো. নিজামকে ফেরি ‘মহানন্দা’ থেকে নারায়ণগঞ্জ বেইজে এবং শিব্বির আহমেদ ভূঁইয়াকে বেইজ থেকে ফেরি ‘মহানন্দা’য় পদায়ন করা হয়। একই আদেশে মো. আনিসুর রহমান সিকদারকে ফেরি ‘কিষাণী’ থেকে বেইজে এবং মো. শাহিন মিয়াকে বেইজ থেকে ফেরি ‘কিষাণী’তে বদলির আদেশ জারি করেন ১১ মাস আগে। মাস্টার অফিসারদের পদায়নের ক্ষেত্রেও একইভাবে নিয়মভঙ্গ করা হয়। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৬ আগস্ট মো. তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারকে ফেরি ‘মহানন্দা’ থেকে ফেরি ‘কাকলী’তে এবং রাজন মিয়াকে ফেরি ‘কাকলী’ থেকে চাঁদপুর বেইজে বদলি করা হয়। ২০২৫ সালের ৭ মে’র আদেশে মো. আবুল বাসার হাজরাকে ফেরি ‘কুমিল্লা’ থেকে নারায়ণগঞ্জ বেইজে এবং মো. আবি শাফায়াতকে রো রো ফেরি ‘কেরামত আলী’ থেকে ফেরি ‘কুমিল্লা’য় পদায়ন করা হয়। একই তারিখে জারিকৃত আরেক আদেশে মো. আলমগীরকে ফেরি ‘গৌরী’ থেকে নারায়ণগঞ্জ বেইজে এবং মো. মাহবুব আলমকে নারায়ণগঞ্জ বেইজ থেকে ফেরি ‘গৌরী’তে পারস্পরিক বদলি করা হয় ১১ মাস আগে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিআইডব্লিউটিসির প্রায় ৮শরও বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বদলি বা পদায়ন প্রক্রিয়ায় বিশাল অঙ্কের ঘুস লেনদেন হয়েছে। প্রতিটি বদলির পেছনে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সবার মুখে মুখে। এই সিন্ডিকেটের যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের শাস্তিমূলক বদলি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিধি লঙ্ঘনে ৮৫ গ্রিজার নিয়োগ : ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ৮৫ জন গ্রিজার (ইঞ্জিন অফিসার সহায়ক) নিয়োগের সার্কুলার দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের সময় তড়িঘড়ি করে ফজলে রাব্বি ইচ্ছামতো নিয়োগপত্র বিলি করেন। টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিয়োগ বাতিল হওয়ার শঙ্কা থেকে দ্রুত ফলাফল দিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি নিয়োগ বিধির (জনপ্রশাসন পরিপত্র) লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক ওই নিয়োগে বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার কথা পরিচালক (প্রশাসন)-এর। কিন্তু মো. ফজলে রাব্বি কৌশলে পরিচালক (কারিগরি) ওয়াসিফ আহমদের অধীনে সম্পূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ওয়াসিফ আহমেদ পদে সিনিয়র হলেও ফজলে রাব্বির আজ্ঞাবহ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। নিয়োগ কমিটিতে ওয়াসিফ আহমেদ ছিলেন আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছিলেন ফজলে রাব্বি। দুজনে মিলেই এই নিয়োগ দুর্নীতি জায়েজ করেন।
পদোন্নতিতে গাফলা : বিআইডব্লিউটিসি’র বিধিবদ্ধ বাছাই কমিটি থাকা সত্ত্বেও মো. ফজলে রাব্বি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষভাবে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণপূর্বক পদোন্নতি দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা তালিকায় প্রথমে অবস্থানকারী যোগ্য ও দক্ষ কর্মচারীকে বঞ্চিত করে তালিকার শেষে থাকা তুলনামূলকভাবে কম জ্যেষ্ঠ বা অযোগ্য ব্যক্তিকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের কাছে বঞ্চিত কর্মচারীদের পক্ষে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি জাহাজি মাস্টার পদে পদোন্নতিতেও একই অনিয়ম দেখা গেছে।
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ও গত ৩ মার্চ জারিকৃত দুটি আদেশে জ্যেষ্ঠতার চরম লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুটি আদেশে ৫৬ জনকে পদোন্নতি দেন। এর মধ্যে ৩য় শ্রেণির মাস্টারকে ২য় শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির মাস্টার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এছাড়া গত ১২ মার্চ আরেক আদেশে ২০ জন হুইল সুকানিকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্বও দিয়েছেন ফজলে রাব্বি। জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ফিডার পদ পূর্ণ না হলে কাউকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া যায় না। কিন্তু ফজলে রাব্বি নিয়মবহির্ভূতভাবে শুধু ‘প্রশাসনিক অনুমোদন’-এর ভিত্তিতে নির্বিচারে চলতি দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
নথিপত্রে দেখা গেছে, গত বছর ৮ জুলাই দপ্তরাদেশে ৩ জন মেরিন অফিসারের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। সৈয়দ আলীমুজ্জামানকে (কোড নং-১৫০২৬), প্রথমে ‘কনিষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা’ থেকে ‘নৌ অফিসার’-এর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে অত্যন্ত সংবেদনশীল কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ নৌ বিভাগে বদলি করেন। পাটুরিয়ায় কর্মরত কনিষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মামুনকে (কোড নং-১৫০২৭) জ্যেষ্ঠতার নিয়ম লঙ্ঘন করে সেখানে ‘নৌ অফিসার’-এর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। চিলমারী রৌমারী ঘাটের কনিষ্ঠ নৌ অফিসার মো. নজরুল ইসলামকে (কোড নং-১০২১৯) জ্যেষ্ঠতা না মেনেই ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ উইংয়ে নৌ অফিসারের পদ (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিধিবিধান লঙ্ঘন করেই জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) পদেও চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এমনকি প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিএম প্রশাসন’ পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিধি না থাকলেও জেসমিন আরা বেগম নামে একজনকে চলতি দায়িত্ব থেকে জিএম পদে পদোন্নতি দেন। এমনকি ফজলে রাব্বি নিজের পদোন্নতিটাও নিয়েছেন বিধিবিধান লঙ্ঘন করে।