কর্মকর্তাদের সব পদে কাজের মানসিকতা থাকা জরুরি - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
২০২৪ সালের আত্মত্যাগই ২০২৬ সালের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা,আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ তীরে এসে তরি ডুবলো বাংলাদেশ! অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ হারও বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী আইনে কোনো সংসদ সদস্যকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় সুইস ব্যাংকে প্রাণঘাতীর পরিবর্তে ‘নন-লিথাল’ অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএসএফ

কর্মকর্তাদের সব পদে কাজের মানসিকতা থাকা জরুরি


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:শুধু পদোন্নতি অথবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারির সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হওয়া যায়। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সব পদেই কর্মকর্তাদের কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, সব সময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন অথবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই দুর্নীতিপরায়ণতা ও অপেশাদারির অন্যতম কারণ। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, আমার বিশেষ আহ্বান-জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। তিনি বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি অথবা পদোন্নতির মূলনীতি। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সম্মেলন উদ্বোধনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান। এ সময় রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। তিনিও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।

ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন,দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক,ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হলো বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধ। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য পুরোটাই নির্ভর করছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিগত জাতীয় নির্বাচনে জনপ্রশাসনের যারা পেশাদারির পরিচয় দিয়ে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জনগণের রায় যে প্রতিফলিত হয়, সেটি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা অবশ্যই প্রমাণ করেছেন। আর যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে-সেটিও আমরা ’১৪, ’১৮ বা ২০২৪ সালে দেখেছি। তিনি বলেন, শনিবার বিকালে আপনারা দেখেছেন বাচ্চাদের স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠান। বাচ্চাগুলোর কী স্পৃহা মনের মধ্যে, তারা এগিয়ে যেতে চায়। আমার মনে হয়, এ জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মেইন স্পৃহা বা মোটো হোক সেই বাচ্চাদের মোটোটা। অর্থাৎ সামনে এগিয়ে যাওয়া-এটিই হোক এ অনুষ্ঠানের স্পিরিট।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি ও লুটপাটের মহারাজত্ব কায়েম হয়েছিল। ভয়ানক ঋণের ফাঁদে রাষ্ট্র ও জনগণকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এ মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। বাংলাদেশও প্রতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।তারেক রহমান বলেন, ইতোমধ্যে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টসের বিষয়টিসহ দেশে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মীয় গুরুদেরও প্রতিমাসে আমরা সম্মানির ব্যবস্থা করেছি। তিনি বলেন, আমাদের ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর।

বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সবাই ওয়াকিবহাল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সময় মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এখানে অনেক বিষয় আছে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক দূত (অ্যাম্বাসেডর)। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নিয়ামক হিসাবে দেখা প্রয়োজন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কার্যকর, নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করা প্রয়োজন।

সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে সেবাপ্রার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হন অথবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হন, সে ব্যাপারে ডিসিদের কঠোর নজর রাখতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের যে কোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেগুলো আপনাদের সক্ষমতার মধ্যেই আছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্যই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি বিশ্বাস করি-‘সবার আগে বাংলাদেশ।

Top