পদোন্নতি বঞ্চনার মুখে ৯৪৬ এএসআই,সরাসরি নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদোন্নতি বঞ্চনার মুখে ৯৪৬ এএসআই,সরাসরি নিয়োগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: পুলিশে সাব-ইনস্পেকটর (এসআই) পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশের ৯৪৬ জন এএসআই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের পদোন্নতি দেবে না বর্তমান সরকার।এজন্য পুলিশের প্রবিধান-৭৪১(বি) পরিবর্তনের জন্য সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে এসআই পদে শুরু হবে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া। এর ফলে পদোন্নতি বঞ্চনার মুখে পড়বেন ৯৪৬ এএসআই।বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ পদায়নপ্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, সরাসরি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাবসহ নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা এসব সুযোগ কাজে লাগাতে বাহিনীর ভেতর থেকে পদোন্নতি না দিয়ে সরাসরি নিয়োগের পথ তৈরি করছেন।এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, শূন্যপদের বিপরীতে ফিফটি ফিফটি নিয়োগ করার নিয়ম রয়েছে। সরকার যেটা করছে তাতে বিশেষ কোনো সময় সরাসরি নিয়োগ করতে পারবে। সরাসরি নিয়োগের বিধানটি যুক্ত করেছে সরকার। বঞ্চিত হতে পারেন-এমন এএসআইদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান জনবল ও আইন কিন্তু চেঞ্জ হচ্ছে না।

তথ্যমতে, পুলিশবাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের এমন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে ৪ হাজার জনবল। পুলিশ বাহিনীর রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩-এর প্রবিধান অনুযায়ী সরাসরি এসআই নিয়োগে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।বিশেষ করে এসআই পদে নিয়োগে ৫০ শতাংশ সরাসরি এবং ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা। পুলিশ সদর দপ্তরে ৬ এপ্রিল পলিসি গ্রুপের বৈঠক শেষে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসআই পদে পদোন্নতি দিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এএসআই সদস্যদের পরীক্ষা নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এসআই পদে পদোন্নতি পেতে তিন ধাপের (এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন সারা দেশের প্রায় ১২ হাজার এএসআই। এর মধ্যে ৯৪৬ জন চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ হন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশের প্রবিধান-৭৪১(বি) পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন দিলে তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।সিলেট অঞ্চলে কর্মরত এক এএসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পরিশ্রম করছি। কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও আমাদের পদায়ন করা হবে না। শুনেছি আমাদের অপরাধ হচ্ছে আমরা আওয়ামী লীগ সময়ে নিয়োগ পেয়েছি। দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের কোটায় চাকরি হয়েছে। অথচ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেকের চাকরি তত্ত্বাবধায়ক ও বিএনপি সরকারের সময়ে হয়েছে। সেগুলো বিবেচনা না করে ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে আমাদের পদোন্নতি বন্ধ করা হচ্ছে। আমরা বাহিনীর জন্য কাজ করি। শুধু আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।

ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এএসআই নাসরিন আক্তার বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর বাহিনীতে আছি। পদোন্নতি পেতে ১২ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করেও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। কিন্তু আইন পরিবর্তন করে আমার পদোন্নতির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।মো. শামিম আল মামুন নামের এএসআই বলেন, যারা পুলিশে সৈনিক পদে যোগ দেন, চাকরির শুরু থেকে তাদের স্বপ্ন থাকে পদোন্নতি পাওয়া। ডিউটির পাশাপাশি তারা সেভাবেই পরিশ্রম করে। কিন্তু সরকার আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সরাসরি এসআই নিয়োগ দেবে। এটা আমাদের সঙ্গে বৈষম্য।

পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বাহিনীর ভেতরের সদস্যদের অভিজ্ঞতা বেশি। যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অবশ্যই পদোন্নতি দেওয়া উচিত। পদোন্নতি না দিলে বাহিনীতে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। তারা পদোন্নতির কথা চিন্তা করে পরিশ্রম করেন। যখন তারা দেখবেন সবই বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তখন দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাবে।সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম বলেন, বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের স্বার্থ আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত। চলমান আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা উচিত। আইন পরিবর্তন বা আইনের বাইরে গিয়ে অন্যকিছু করলে বাহিনীর ভেতরে থাকা যোগ্যরা তাদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হবেন। সরাসরি নিয়োগের আগে সরকারের উচ্চমহল ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন।

Top