সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাশ করা হয়েছে। বিল দুটি পাশ হওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। এছাড়া সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাশ হয়েছে। এ বিল পাশের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। বিলে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে নতুন বিল পাশ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল পাশের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা। এদিকে বৃহস্পতিবার সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদে ২৪টি বিল পাশ হয়েছে।
‘সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাশের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলো। শুধু তাই নয়, এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলগুলো উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বিল দুটি পাশ হওয়ায় সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে।
অধ্যাদেশ দুটি বাতিল করতে আনা বিল পাশের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আবারও আগের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিু আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। অধিকতর যাচাই-বাছাই করে পরে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল, ২০২৬ পাশের পর জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন জামায়াতে ইসলামীর এমপিরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কটি গণবিরোধী বিল আজকে পাশ হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এজন্য এখন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।বিরোধী দলের ওয়াকআউটের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফার্স্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং-সব রিডিংয়ে উনারা সহযোগিতা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা। এ সময় তিনি বিরোধীদলীয় সদস্যদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশগ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার যেসব বিল পাশ হয়েছে তার মধ্যে অন্তত ছয়টি বিল নিয়ে আপত্তি তোলে বিরোধী দল।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল সংসদে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করলে তাতে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সংসদ-সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এই বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ, স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিু আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের খাগড়াছড়ি বদলি করা হতো, সেটা আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিমকোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কিনা, সেটা বলতে পারে। কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করার জন্য ‘ডিক্টেট’ করতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা কোর্ট, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন সব সাংবিধানিকভাবে সংরক্ষিত। কিন্তু সে স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলের নেতাদের সাজা দেওয়ার জন্য রাতে মোমবাতি জ্বালিয়েও বিচারকাজ করা হয়েছে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও একজনকেও সুপ্রিমকোর্ট ডিসিপ্লিনি প্রসিডিউরের আওতায় আনেনি। সুপ্রিমকোর্ট এতটাই স্বাধীন যে এখানে সরকারের হাত দেওয়ার সুযোগ নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খাইরুল হক গজিয়ে উঠুক। সুপ্রিমকোর্টে ভালো বিচার হোক। মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক সুপ্রিমকোর্ট। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক। তিনি বলেন, তারা সুপ্রিমকোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ আইন করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ করা প্রয়োজন। আরও যাচাই-বাছাই করে পরে এ আইন পাশ করা হবে। পরে বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ হয়েবিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়।
সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল পাশ হওয়ার পর আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ বিবেচনার জন্য তোলেন। এতে আপত্তি জানান বিরোধী দলের সদস্য আখতার হোসেন। আগের বিলে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আখতার বলেন, এখানে মূল সংকট বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। ঘুড়ির নাটাই হাতে রেখে আকাশে ওড়ার যতই স্বাধীনতা দেওয়া হোক না কেন, টান দিলে ঘুড়ি হাতে চলে আসবে। এই অধ্যাদেশ জারির আগে বিচারক নিয়োগের বিধানে এরকম একটি পরিস্থিতি ছিল। বিদ্যমান সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সেটা করতে হয়। তখনই শপথবদ্ধ রাজনীতিকদের মতো, ‘মানিক চোরার মতো’ ব্যক্তিরা ‘হাসিনার দ্বারা’ বিচারপতি নিয়োগ হয়েছিল। সেই ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, থিয়োরিটিক্যালি তিনি বিরোধী দলের সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে বিশেষ করে গত ১৭ বছরে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়ে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। তারা চান এই নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক।তিনি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ-সদস্য উল্লেখ করে বলেন, সরকারের পাবলিক পলিসি হলো বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণের জন্য আমরা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
আখতার হোসেনের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আপনি বিচারক নিয়োগের যে স্বচ্ছতার কথা বলছেন, আপনি যে মানদণ্ডের বিচারক চান, আপনি যে সুপ্রিমকোর্ট চান, আপনি যে বিচার বিভাগের মানদণ্ড চান, আপনি যে বিচারালয় চান, আমরাও সেই বিচারালয় চাই। আমরাও চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, একজন বিচারপতির নামের সঙ্গে একটা বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছে। সেটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।
মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে নতুন বিল পাশ : বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিলটি উত্থাপন করেন এবং তা সেভাবেই পাশ হয়।
এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। বিলটি পাশের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারীকৃত অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার আইন’ পুনঃপ্রচলন হবে।
জাতীয় সংসদে ২৪টি বিল পাশ : অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অবিকল রেখে ২১টি বিল জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত করে পাশ করা হয়েছে আরও দুটি বিল। এছাড়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনঃপ্রচলন করে আনা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ পাশ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিন বৃহস্পতিবার এ বিলগুলো পাশ হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন।
স্থানীয় সরকার সংশোধন বিল পাশ, নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক : জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাশ হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এ বিল পাশের মাধ্যমে স্থানীয় সারকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন বিলও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। বিলে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংশোধনী বিল পাশ করেছে জাতীয় সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতায় আনা এসব সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দল সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার বলছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা সচল রাখা এবং দ্রুত নির্বাচনে যেতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পাঁচটি বিলেই প্রায় একই ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, পলাতক বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল, এখন সেগুলো আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন, ওয়াকআউট কি সরকারি দলকে জিজ্ঞাসা করে করব : তৃতীয়বারের মতো অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা। এরপরই ওয়াকআউট নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পর ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না, এটা জানার জন্য দাঁড়িয়েছি। আশা করি, মাগরিবের নামাজের পর তারা ফিরে আসবেন। পরে মাগরিবের নামাজের পর অধিবেশনে যোগ দেন বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা। এরপরই ওয়াকআউট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে জানতে চান, ওয়াকআউট করা কোনো অপরাধের পর্যায়ে পড়বে কি না। তিনি বলেন, সরকারি দলকে জিজ্ঞেস করে ওয়াকআউট করব কি?
স্পিকারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকারের সাক্ষাৎ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সংসদীয় সম্পর্কের মাধ্যমে শুধু সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক শক্তিশালী নয়; বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের জনযোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে। স্পিকার আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একটি প্রাণবন্ত সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, তাহসিনা রুশদী এবং এম নাসের রহমান অস্ট্রেলিয়ান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।