পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ‘বিশেষ ছাড়’ নেই গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে কোনো গোপন শর্তে নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প... একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২শ,গ্যাস সংকটে হিমশিম চালকরা একযোগে ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন, সংযুক্ত ১ গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য! ১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী কাজী ফিরোজের বিরুদ্ধে

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা ছিল দেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস। এই ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠেছে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করতে কাজ করবে তার সরকার। বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িত। সরকার জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করবে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডি দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের(বিজিবি)মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।এরপর পিলখানায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ১৭ বছরে কোনো প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানই এবারের রমজানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ইফতারে অংশগ্রহণ। সেনাবাহিনী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিনে পিলখানায় সেই বিভিষীকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প। প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায়, সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস এবং একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। আমি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নই, একজন সেনা পরিবারের সদস্য, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং পরবর্তীতে দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়। বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। দেশে ফিরে বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি, গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা।

তারেক রহমান বলেন, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করছি।তারেক রহমান বলেন, আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শিকড় স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যরা বেতার কেন্দ্রে দায়িত্বে থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে করা তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের অংশবিশেষ প্রকাশ করা হবে। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল। দলটি হত্যার পরিকল্পনাসহ হত্যাকারীদের সব রকম সহায়তা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে।এর আগে সকালে ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষ্যে বনানী সামরিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, নতুন করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে। তিনি বলেন, এই পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের একটি। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তার ফলাফল আজও প্রকাশিত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়, যার রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। তবে সে রিপোর্ট বাস্তবায়নে সেই সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডি দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা। তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান নির্দোষ সেনা কর্মকর্তারা, যা জাতির ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে একটি কলঙ্কজনক দিন হিসাবে। সেনাপ্রধান বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহীদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহীদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা জীবন গড়ার পথে পিতামাতার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, শহীদদের প্রতিটি সন্তান আমাদেরই সন্তান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা আজও অটুট রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে উভয় বাহিনী যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় জীবনে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সবাই বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।তিনি বলেন,এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ঐতিহাসিক ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি পিলখানায় শাহাদতবরণকারী সেনা সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে।

Top