ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল ,হচ্ছে না জনদুর্ভোগ প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ‘বিশেষ ছাড়’ নেই গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে কোনো গোপন শর্তে নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প... একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২শ,গ্যাস সংকটে হিমশিম চালকরা একযোগে ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন, সংযুক্ত ১ গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য! ১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী কাজী ফিরোজের বিরুদ্ধে

ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল ,হচ্ছে না জনদুর্ভোগ প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে রাস্তায় চলাচল করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে প্রটোকল-কড়াকড়ি শিথিল করে রাস্তায় সাধারণ নাগরিকের মতো চলাচল করছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন,প্রধানমন্ত্রীর এমন চলাচলকে আমরা সাধুবাদ জানাই।কারণ,সরকারপ্রধান হিসাবে তার ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সরাসরি দেখার সুযোগ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা,ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির নানা সমীকরণে এ প্রক্রিয়ায় চলাচলে তার কিছুটা ঝুঁকি আছে। এখানে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। ফলে সরকারপ্রধান রাস্তায় বের হলেও তৈরি হচ্ছে না অতিরিক্ত যানজট। নষ্ট হচ্ছে না মানুষের কর্মঘণ্টা। অপচয় হচ্ছে না জ্বালানি। ভিভিআইপি প্রটোকলের বাইরে এসে এমন সাদামাটা জীবনযাপনে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন নয়া সরকারপ্রধান তারেক রহমান।তবে এমন চলাচল নিয়ে সংশয় উড়িয়ে দিচ্ছেন না অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান থেকে সচিবালয়ে যাওয়ার পথে চারটি ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে গন্তব্যে পৌঁছান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত গাড়ি গুলশানের বাসভবন ত্যাগ করে। পথে চারটি সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়িটি থামে এবং সকাল সোয়া ৯টায় তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান। ট্রাফিক সিগন্যালে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। কেউ কেউ গাড়ির কাছে এসে তাকে শুভেচ্ছা জানান। অনেকে মোবাইল ফোনে সেলফিও তোলেন।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমান সড়কে চলাচলে কোনো ধরনের ভিআইপি প্রটোকল নিচ্ছেন না। রাস্তার নিয়মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহার করে চলাচল করছেন তিনি। ট্রাফিক সিগন্যালে সাধারণ মানুষের মতোই দাঁড়িয়ে থাকছে তাকে বহনকারী গাড়ি। ফলে তার চলাচল ঘিরে রাজধানীর সড়কে কোনো ধরনের যানজট, সময় অপচয় ও জনভোগান্তি দেখা যায়নি।অথচ বিগত দিনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের চলাচলের জন্য সড়ক ফাঁকা রাখতেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সরকারের নির্দেশনায় এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ নিয়ে রাস্তা বন্ধ রাখতেন তারা। লম্বা সময় রাস্তা বন্ধ রাখায় সৃষ্টি হতো দীর্ঘ যানজট। ভোগান্তিতে পড়তেন সড়কে চলাচল করা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ভিভিআইপি চলাচলের সময় শুধু সড়কের ট্রাফিক সিগন্যাল নয়-ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ আশপাশে মানুষ চলাচলও বন্ধ রাখতেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দিতেন বিশেষ নিরাপত্তা।ট্রাফিকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় আগাম ‘ক্লিয়ারেন্স’ দিয়ে কয়েক কিলোমিটার সড়ক ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না তাদের। ফলে প্রধানমন্ত্রীর মুভমেন্টেও নির্ধারিত নিয়মে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর রাখছেন তারা। তবে নির্দেশনা পেলে বিগত সময়ের মতো রাস্তা ফাঁকা রাখবেন।

জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) জিললুর রহমান বলেন, রাস্তায় প্রধানমন্ত্রীর সিগন্যাল ছাড়া চলাচল অনন্য, অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য। রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতনরা যদি এভাবে চলাচল করেন-তাহলে রাস্তায় চলাচল করা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোগান্তি কমে যায়। এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এসএন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিকের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক প্রটোকল চাচ্ছেন না। উনি নরমাল সিগন্যালে চলতে চাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী চান না তার কারণে সাধারণ মানুষের অসুবিধা বা দুর্ভোগ হোক। মানে, আমরা একটা সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়ে উনাকে পার করে দেব। রাস্তা ক্লিয়ার করব। আর শত শত মানুষ থেমে থাকবেন। এটা উনি একদমই চাচ্ছেন না। অন্য ১০ জন যেভাবে চলছেন, তিনিও সেভাবে চলতে চাচ্ছেন। এভাবে চললে রাস্তায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।

Top