ভোট ঘিরে আশঙ্কা ও চ্যালেঞ্জ জানতে চায় ইইউ
মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চ্যালেঞ্জ বা আশঙ্কা আছে কিনা-তা জানতে চেয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইইউ পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে জানতে চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে ইইউর একটি বড় পর্যবেক্ষক দল।দলটি শনিবার থেকে জেলায় জেলায় নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এর আগে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পর্যবেক্ষক দলের সদস্যরা।সাক্ষাতের পর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। আর সাক্ষাৎ শেষে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক তা দেখতে চায় ইইউ।’
সাক্ষাতের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, উনাদের দুটি বিষয়ে কৌতূহল ছিল। তারা মূলত আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতি এবং কোনো কিছুতে আশঙ্কা করছে কিনা জানতে চেয়েছেন। আমরা নির্বাচনে প্রস্তুতির বিষয়ে তাদের জানিয়েছি। আমরা বলেছি, ইতোমধ্যে ১১৬টি আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছি। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। কিছু আসনে আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে বিলম্ব হয়েছে।
আখতার আহমেদ জানান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী-সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন অপতথ্য ও তথ্যের অপপ্রচারকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করেছে। অপপ্রচার মোকাবিলায় মেটার (ফেসবুক কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছেন তারা। আমরা বলেছি, আলোচনা চলছে এবং আমরা আশা করছি মেটা সহযোগিতা করবে। তবে ইন্টারনেটের গতি কমানোর মতো পদক্ষেপের পরিবর্তে বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও আক্রমণাত্মক কনটেন্ট অপসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী ৭ দিন সেনাবাহিনী, ৮ দিন আনসার মোতায়েন থাকবে এবং পুলিশ আগেই মাঠে রয়েছে। সেনাবাহিনী মাঠে আছে, নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ দায়িত্ব অনুযায়ী তারা কাজ করবে। পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে বলেছি, এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে জমা হয়েছে। দেশের ভেতরে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট।
কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে ইসির এ কর্মকর্তা বলেন, মোট ৬ হাজার ৯১ জন বন্দি ভোটার হিসাবে নিবন্ধন করেছেন। তাদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। ভোটের মাঠে বিএনসিসি মোতায়েন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, বিএনসিসি কাজ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট আটকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের কারণে কিছু ব্যালট পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে।
ইইউর ব্রিফিং : সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্রিফিং করেন ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইজাবস। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি আমরা। একই সঙ্গে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন দেখার প্রত্যাশা করছি। আগামী শনিবার থেকে ইইউর স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা জেলায় জেলায় যাবেন বলেও জানান তিনি।
ইজাবস বলেন, গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের যে দৃঢ় সম্পর্ক তা রক্ষা করতে ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এখানে কোনো পরামর্শ দিতে বা কোনো কিছু সংশোধন করতে আসিনি। আমাদের মূল কাজ হলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা। মিশন শেষে আমাদের পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরা হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।