বিশ্বব্যাংক চলমান প্রকল্প থেকে অর্থ প্রত্যাহার করেছে - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাংক চলমান প্রকল্প থেকে অর্থ প্রত্যাহার করেছে


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া : বাজেট সহায়তা দিতে গিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাংক চলমান প্রকল্প থেকে অর্থ প্রত্যাহার করেছে। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ প্রত্যাহার করেনি। সাড়ে ১১ শতাংশ তুলে নেওয়া হয়। প্রকল্পের নাম গ্রামীণ সেতু সহায়তা প্রকল্প। এর ফলে বাস্তব কাজের পরিমাণও কমে আসবে। এভাবে অন্তত ৮-৯টি ধীরগতির প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরডির একজন অতিরিক্ত সচিব সোমবার বলেন, এটি প্রত্যাহার করা বুঝায় না। মূলত সাময়িকভাবে তুলে নিলেও ঘুরেফিরে উন্নয়ন কাজেই ব্যবহার হবে।

সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়কে সেতু সহায়তা (প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে তিন হাজার ৪৪৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা। এ টাকা থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা। যে কারণে এখন প্রকল্পটি সংশোধন করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে কমানো হয়েছে কাজও।এদিকে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্প থেকে টাকা প্রত্যাহার করায় পূর্ত কাজের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এজন্য গত ৬ মার্চ ইআরডির মাধ্যমে একটি কর্মপরিকল্পনা বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। এই প্রস্তাব অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সভায় কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশ্ন উত্থাপন করে টাকা প্রত্যাহারের প্রধান কারণ জানতে চান। জবাবে ইআরডির যুগ্মসচিব রেজাউল করিম জানান, মূলত বাজেট সহায়তা দেওয়ায় বিশ্বব্যাংক ধীরগতির প্রকল্প থেকে টাকা তুলে নিয়েছে।

অপরদিকে ধীরগতির কারণ সম্পর্কে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন সভায় বলেন, প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হলেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম। কেননা ডিসবাসমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর (ডিএলআই) নামক নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করে পূর্ত কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। অর্থাৎ কাজ অনুযায়ী বরাদ্দ ছাড়। এটি এলজিইডির জন্য নতুন ছিল। ফলে প্রকল্পের শুরুতেই মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পূর্ণ আয়ত্ত করে স্কিম তৈরি করতে দেরি করে। এছাড়া ব্রিজের অগ্রাধিকার নির্ধারণেও দেরি হয়। পাশাপাশি ডিজাইন ও রক্ষণাবেক্ষণ পরামর্শক ফার্ম নিয়োগে সময়ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ ও কোভিড-১৯ এর কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

প্রশ্নের মুখে নানা প্রস্তাব : পিইসি সভার পক্ষ থেকে ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে মোটা দাগে কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয়। এরমধ্যে রয়েছে প্রকল্পটির পরামর্শক খাতে ১৩৯ কোটি টাকা, ২২টি পরিদর্শন যানবাহন ভাড়ার ব্যয়, আউটসোর্সিং সেবা খাতে ৫৬ কোটি টাকা, ডিএলআই পদ্ধতি যাচাই খাতে সাড়ে ৫ কোটি টাকা এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বাস্তবে এসব বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে অপচয় ও দুর্নীতির যোগসূত্রতা রয়েছে। এ কারণে পিইসি প্রকল্প ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যৌক্তিক প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে। প্রকল্পের বিদেশ প্রশিক্ষণ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

Top
%d bloggers like this: