রোগীরাও নিজেদের পছন্দমতো ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোগীরাও নিজেদের পছন্দমতো ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :রোগীরাও নিজেদের পছন্দমতো ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। একইসঙ্গে চিকিৎসকরাও অপ্রয়োজনীয় নানা ওষুধ সেবনে রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এই অবস্থায় ওষুধের ব্যবহার ও নানাবিধ প্রয়োগে উভয়পক্ষকে সচেতন হতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞরা।বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস-২০২২ উপলক্ষে রোববার মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘ক্ষতি ছাড়া ওষুধ, বিশ্বব্যাপী রোগীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। এর আগে ঔষুধ প্রশাসন অধিপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউএসএআইডির‌ এর কারিগরি সহযোগীতায় সংস্থা‌টির মেডিসিন, টেকনোলজিস অ্যান্ড ফার্মাসউিটিক্যালস সার্ভিস কর্মসুচি, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, রস বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি পরিবর্তী গোল টেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধের ব্যবহার কমাতে হবে। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। এটা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর বিষয়। ওষুধ ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে।তিনি বলেন, ‘আমরা দেখি যে এখন অনেক মেডিসিনেই নেফ্রোটক্সিক উপাদান পাওয়া যায়। এটি যা সিকেডি (দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি) হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে আবেদন থাকবে, বিষয়টি যেন কঠোরভাবে দেখা হয়। কারণ, এটি মানুষের মধ্যে কিডনি সমস্যা বাড়ার অন্যতম কারণ।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের প্রধান ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, একজন ফার্মাসিস্টকে বাদ দিয়ে ড্রাগ সেফটি নিশ্চিত করা যাবে না। আমরা ফার্মাসিস্ট কাদের বলি, যারা গ্রাজুয়েট কমপ্লিট। কিন্তু তাদের মাত্র তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাগ সেফটি নিয়ন্ত্রিত হয়? সি গ্রেডের ফার্মাসিস্ট বিশ্বের কোথাও নেই।তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শমতো রোগীদের ওষুধ দেওয়ার কাজটি করেন একজন ফার্মাসিস্ট। এর পর খাওয়ার বিষয়টি দেখেন নার্স।এক্ষেত্রে প্রত্যেককেই সচেতনতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।সীতেশ চন্দ্র বলেন, হাসপাতালকে অবশ্যই তার ওষুধের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট থাকে না। ওষুধের দায়িত্ব দেওয়া হয় চিকিৎসককে। কিন্তু তিনি নানা ব্যস্ততায় সময় দিতে পারেন না। যে কারণে ওষুধের ব্যবহারটা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, আমরা অনেকেই চেম্বারে রোগী দেখি। সেখানে রোগীকে ওষুধের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের পক্ষে তা হয়ে উঠে না। প্রতিনিয়ত ও আমাদের এত সংখ্যক রোগী দেখতে হয়, যে এটা অনেকটাই কঠিন। পাশাপাশি আমাদের চিকিৎসকের সংখ্যাও রোগীর তুলনায় অনেক কম।

ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, অনেক ওষুধের নামই একদম পাশাপাশি রকমের হয়। এতে রোগীদের বুঝতে সমস্যা হয়। বিষয়টি ওষুধ প্রশাসনকে দেখতে হবে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এক রোগী আরেক রোগীর বেডে গিয়ে বসে আছেন, গল্প করছেন। এই অবস্থায় একজনের ঔষধ গিয়ে আরেকজনকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোগী জানেনও না। এক্ষেত্রে আইডেন্টিফিকেশনটা জরুরি।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে ওষুধ একটি অপরিহার্য উপাদান। এর উপকারের পাশাপাশি ক্ষতিও রয়েছে। তাই ওষুধ ব্যবহারে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়কে সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ন্যাশানাল ফার্মাকোভিজিলেন্স সেন্টার, ইউএসএআইডি এবং অ্যামট্যাপস এর বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Top