সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করেনি কেউ। - Alokitobarta
আজ : সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করেনি কেউ।


আবুবকর সিদ্দীক:আমাদের কথা ভাবার সময় কই।আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রেক্ষাপট রাষ্ট্র,সমাজের কাছে তুলে ধরি।দেশ ও জাতির দুঃসময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা এভাবে মানুষের জন্য নিবেদীত প্রান হিসেবে কাজ করেন।গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এটা খুবই হতাশার যে,করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করেনি।তাদের জন্য নেই কোনো প্রণোদনা।নেই উৎসাহব্যঞ্জক অন্য কোনো কিছুও।

কিন্তু করোনাকালে ফ্রন্টলাইনে সাংবাদিকরা ছিলেন,আছেন এবং থাকবেন।করোনা সম্পর্কিত সব বার্তা,সরকারি নির্দেশনা,সচেনতামূলক পরামর্শ ও বিধিনিষেধ মানুষ গণমাধ্যম বা মিডিয়ার বদৌলতে জানছে।প্রতিদিন আইইডিসিআরের ব্রিফিং সব গণমাধ্যম তুলে ধরছে।মানুষকে হাত ধোয়া শেখাচ্ছে গণমাধ্যম।কোন হাসপাতালে করোনার পরীক্ষা হয়, কোন নম্বরে কল করতে হবে- এগুলো গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত তুলে ধরছে।সামাজিক দূরত্ব মানতে সরকারের নির্দেশনা গণমাধ্যমই তুলে ধরছে।মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমসহ পাঁচজনের বেশি নামাজ পড়া যাবে না, সরকারের এমন নির্দেশনাও গণমাধ্যম তুলে ধরছে।করোনার প্রতিনিয়ত আপডেট গণমাধ্যমেই আসছে।করোনার সেই শুরু থেকে বিমানবন্দর, হাসপাতাল, লকডাউন এলাকা- এসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় সাংবাদিকরা গিয়েই প্রতিনিয়ত তথ্য দিচ্ছেন।এখন যে বাসায় বাসায় মানুষ থাকছে তাদের সঠিক তথ্য পাওয়ার উপায় কিন্তু এখন এই গণমাধ্যমই।এর বাইরে টেলিভিশনগুলোতে করোনায় মানুষকে সচেতন করতে কতো আয়োজন।দৈনিক পত্রিকা,অনলাইন নিউজ পোর্টাল, রেডিও- সবাই এই মহামারিতে জনসচেতনতা গড়ার ফ্রন্টলাইনে।স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্য জরুরি সেবাকর্মীদের মতো ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময়ের যোদ্ধা হিসেবে কাজ করলেও স্বীকৃতি নেই।

একটু আগে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের উদ্দেশে সরকারের ঘোষণায় বলা হলো,দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বাড়বে।স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ ৭৫০ কোটি টাকা।স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এমন প্রণোদনা ঘোষণা খুবই প্রশংসনীয়।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জন্য সরকারের ঘোষণা দিল।ঝুঁকি ভাতাসহ বাংলাদেশ পুলিশের সব ধরনের ভাতা বাড়িয়েছে সরকার।সাধারণ ছুটিতে দায়িত্ব পালন করে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন ব্যাংকাররা।কিন্তু মিডিয়া কিংবা মিডিয়াকর্মীরা কী পেলেন? এই যে সরকারের এ ঘোষণা,এটাও তো গণমাধ্যমের মাধ্যমেই চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার,নার্স,স্বাস্থ্যকর্মী,বাংলাদেশ পুলিশ,ব্যাংকাররা জানতে পারলেন।করোনায় গণমাধ্যমের অবদান রাষ্ট্র ছোট করে দেখছে বলে হয়তো এ পেশার কর্মীদের খানিকটা আক্ষেপ থাকবে, কিন্তু এ মহামারিকালে গণমাধ্যমকর্মীরা জরুরি তথ্যসেবায় পিছু হটবে না,শুধু তাদের মনে একটু কষ্ট থেকে যাবে।গণমাধ্যম এ সমাজ-রাষ্ট্রের সংকটে সবসময় ফ্রন্টলাইনে ছিল,আছে এবং থাকবে।আমার প্রিয় বাংলাদেশের সকল পেশার মানুষ দের জন্য দোয়া রইল।হে মহান আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেন।আমাদের হেফাজত করুন।

লেখক,সাংবাদিক,আবুবকর সিদ্দীক।আলোকিত বার্তা ও অনলাইন পরিবর্তন টিভির সম্পাদক ও প্রকাশক।

Top