উদ্বেগ হওয়ার কিছু নেই হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দল-মতের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্য লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর ঘোষণা উজিরপুর উপজেলায় এনসিপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা হিজলায় জামায়াতের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়ন সদস্যদের মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলন ঘিরে চাঞ্চল্য, ‘প্রতিরোধ আন্দোলনের’ সংবাদ সম্মেলন পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন7 বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতার জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান প্রথম পুত্রসন্তান ও দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হলেন সাংবাদিক আম্মার হোসেন আম্মান জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

উদ্বেগ হওয়ার কিছু নেই হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে


আলোকিত বার্তা:বরিশাল নগরীর সদর রোডের ডা.সোবাহান মার্কেটের চায়না প্যালেসের সংযুক্ত ভবন বাবদ আগে সিটি করপোরেশনকে বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হতো ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনের রেজুলেশন হওয়া বিধি অনুযায়ি ওই ভবনের একাংশের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। ভবনের অপরাশের হোল্ডিং ট্যাক্সও বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েকগুন।

একইভাবে নগরীর কাঠপট্টিতে ব্যবসায়ী গ্রুপ খান সন্সের একটি বহুতল ভবনে এতদিন বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ ২০১৬ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী ওই ভবনের কর ধার্য্য হয়েছে ২৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
সিটি করপোরেশনের একজন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আগে বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স দিতেন মাত্র ২ হাজার টাকা, যার বর্তমান হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার। একইভাবে সিটি করপোরেশনের সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আগে ট্যাক্স দিতেন ৫শ’ ৬ টাকা, বর্তমানে তার ট্যাক্স নির্ধারিত হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর আগে ট্যাক্স দিতেন মাত্র ১ হাজার ৩শ’ টাকা, অথচ নতুন করে তার ট্যাক্স ধার্য হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা।সিটি করপোরেশনের সচিব ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন এই তথ্য জানিয়ে বলেন, নগরীতে আগে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নানা অনিয়ম ছিলো। আগের পরিষদের মেয়র আহসান হাবিব কামাল তার ইচ্ছেমতো ট্যাক্স কমিয়ে দিতেন।কিন্তু মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর ভবনের রাজস্ব বাড়ানোর নানা তৎপরতা শুরু করেন। এতে আগের পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের নানা অনিয়ম ফাঁস হয়ে যায়। সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নানা অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যেহুতু তারা মেয়র কাউন্সিলরদের নির্দেশের বাহিরে ছিল না। তাই তৎকালিন পরিষদের মেয়র কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে তারা কেউ ছাড়া পাবে না। প্রথম পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ধরা হয়েছে। এরপর কান টানলেই মাথা চলে আসবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫২ হাজার হোল্ডিংয়ে (বসতি) বছরে ট্যাক্স আদায় হয় ৯ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৬ সালের বাড়ি ভাড়া অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় করতে পারলে বছরে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব বলে জানান সিটি করপোরেশন সচিব।আজ বুধবার বেলা ১২টায় নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন,তিনি নতুন করে কোন হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াননি। ২০১৬ সালে তৎকালীন পরিষদ যে ট্যাক্স নির্ধারন করেছিলো,তাও আদায় হচ্ছিলো না।নানাভাবে করপোরেশনকে ঠকানো হচ্ছিলো।এর উপর আবার ২০১৮ সালে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয় থেকে নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় হলে জনগনের উপর অনেক বড় চাপ পড়বে। তাই তিনি আগের ধার্য্য করা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে গুরুত্ব দেন। এরপরও কারো কোন আপত্তি থাকলে বিষয়টি তিনি মানবিক দৃস্টিতে দেখবেন বলে জানান।

একটি মহল ট্যাক্স বাড়ানোর গুজব ছড়িয়ে নগর ভবনের সুনাম ক্ষুন্ন করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।এ সময় মেয়র সাদিক বলেন,জনগনের টাকায় নগর ভবন পরিচালিত হয়। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ, ফুটপাত নির্মাণ, সড়ক বাতি স্থাপন, বর্জ্য অপসারণ ও পানির লাইন সম্প্রসারণ সব কিছুই হয় জনগনের টাকায়। জনগণ ট্যাক্স না দিলে নগর ভবন সেবা দেবে কিভাবে। তাই তিনি সকলকে ধার্য্যকৃত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের অনুরোধ করেন।

Top