এক মিনিট অন্ধকারে সারাদেশ - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাংবাদিকরা সংবাদ লিখবে এতে কেউ হুমকি দিলে তা রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু মানছে না... সংকটেও পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে দাপুটে অতিরিক্ত ডিআইজিসহ তিন পুলিশ সুপারকে বরখাস্ত বন্দির মাথায়, কানে বা বুকে গুলি করতেন জিয়াউল হাতে বৈধ কাগজপত্র,ভিসা-টিকিটও ঠিকঠাক,তবুও শাহজালালে পদে পদে হয়রানি দেশে সারের কোনো সংকট নেই খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা,লাগাম টানা যাচ্ছে না খেলাপি ঋণের সোলার ছাড়াও জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে নেছারাবাদে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

এক মিনিট অন্ধকারে সারাদেশ


সাহাদাত হোসেন রুবেল:কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণে দেশের শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল আলোকিত বার্তাকমও এক মিনিট অন্ধকারে ছিল।গত ১১ মার্চ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।গণহত্যা দিবসে ১ মিনিট বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখাসহ দুটি দিবস পালনে নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ওই সভার কার্যপত্র পাঠানো হয়েছে।
এক মিনিট ব্ল্যাক আউটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণযোগাযোগ অধিদফতর, জেলা প্রশাসক (সকল) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

কেপিআইভুক্ত এলাকা (জরুরি স্থাপনা) ও চলমান যানবাহন ছাড়া সারাদেশের মানুষ এ সময় দাঁড়িয়ে ও সব আলো নিভিয়ে একসঙ্গে নীরবতা পালন করে। গোটা জাতি গভীর শ্রদ্ধা আর অবনতমস্তকে স্মরণ করে সেই মানুষদের, যারা একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ মুহূর্তে ২৫ মার্চের বিভীষিকাময় কালরাতে পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম গণহত্যার নজির স্থাপন করেছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী।সেই রাতের শহীদদের স্মরণে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে জাতীয় গণহত্যা দিবস। সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের বড় বড় শহরে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে লাখো ঘুমন্ত বাঙালিকে হত্যা করে। এই গণহত্যা আজও বিশ্বের মানুষের কাছে ঘৃণ্যতম ও তমসাচ্ছন্ন এক অধ্যায়।২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এর পর থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। সেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের সর্বাত্মক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভয়াল সেই রাতে গণহত্যার শিকার অগণিত শহীদকে স্মরণ করেছেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা বিশ্বের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোর অন্যতম। এ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার নীলনকশা অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মেতে উঠেছিল বাঙালি নিধনযজ্ঞে। অন্যদিকে এই নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে অসম সাহসী বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেফতারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন-প্রতিরোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এগিয়ে আসে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যরাও।এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লাখ শহীদের সুমহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

Top