ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাযায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বই ছাপায় সিন্ডিকেট,আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গু... ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন,বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার অপপ্রচার ঠেকাতে এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ,

ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা


নুর নবী জনী : ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য টাকাপে কার্ড তৈরিতে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রতিটি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০০ টাকা।কার্ড তৈরির এই ব্যয় ছাড়াও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, টাকা স্থানান্তর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা খরচ ও চার্জের বিষয় রয়েছে। ফলে ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থায় সরকারের মোট ব্যয় কত দাঁড়াবে, সেটিও এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।কিন্তু এই বিশাল অর্থের জোগান কে দেবে? সরকারের তহবিল থেকে, নাকি কোনোভাবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো এবং এর সঙ্গে সরকারি তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করা নিয়ে মঙ্গলবার সচিবালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।এছাড়া অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। তবে বৈঠকে খরচের দায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান,প্রতিটি কার্ড তৈরির ৬০০ টাকা খরচ সরকার নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে নির্বাহ করা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এখন নতুন করে সামনে এসেছে কার্ড তৈরির খরচের বিষয়টি। শুধু কার্ড তৈরির জন্যই সরকারের সামনে ২৪৬ কোটি টাকার ব্যয়ের প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে পুরো ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও লেনদেন ব্যয় ধরা হলে ব্যয় আরও বাড়বে।

অর্থ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বলেন,ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া। তাই কার্ড তৈরির খরচের নামে সুবিধাভোগীদের ওপর নতুন কোনো আর্থিক চাপ তৈরি করা হবে কিনা, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।এর আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে কোথাও টাকা চাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি এ ধরনের টাকা দাবি করাকে প্রতারণা হিসাবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, আগামী বৈঠকে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তদের হিসাব পরিচালিত হবে। এসব ব্যাংকের বাইরে টাকাপে কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারবেন। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বৈঠক শেষে বলেছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেট কোনো বাধা হবে না; যত প্রয়োজন তত দেওয়া হবে। এটি শুধু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ। অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার এই বক্তব্যের সঙ্গে ২৪৬ কোটি টাকার কার্ড তৈরির ব্যয়ের বিষয়টি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

টাকাপের মাধ্যমে টাকা যাবে: ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে টাকাপে ব্যবহারের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করা। সংশোধিত সভার নোটিশে টাকাপে ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের আন্তঃসংযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় উপকারভোগীর হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে।এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে এবং সরকারের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে। আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কার্ডে ৬০০ টাকা ব্যয় হলে ১ কোটি ৬০ লাখ কার্ড তৈরিতেই খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা।

Top