৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাযায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বই ছাপায় সিন্ডিকেট,আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গু... ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন,বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার অপপ্রচার ঠেকাতে এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ,

৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।তারা সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ ছাড়াও জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সরকারি কার‌্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ে কাজ করবেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। সরকার বলেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে যে, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লুটের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, আরেকটি অংশ দেশের ভেতরে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ে ভূমিকা রাখা এবং জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে-এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ সুশাসন নিশ্চিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংসদ ও জনগণের কাছেও সম্মিলিতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য সরকার।

কে কোন জেলার দায়িত্বে : ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়, আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর, নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন মৌলভীবাজারের দায়িত্ব। মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ, সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলাম যশোর, মাগুরা ও নড়াইল, ইমরান খান চৌধুরী জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব পেয়েছেন। মোহাম্মদ শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁ, মো. জিকে গউছকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে সরকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নিম্নলিখিত জেলা বা জেলাগুলোর আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার‌্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছে।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা। তারা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন। এছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।

Top