র‌্যাগিংয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ

র‌্যাগিংয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী


নিজস্ব প্রতিবেদক :বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের রাতভর র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক নবীন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কীর্তনখোলা নদীর পারে ইমিডিয়েট সিনিয়রদের র‌্যাগিংয়ের সময় ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইমিডিয়েট সিনিয়ররা তাদের কীর্তনখোলা নদীর পারে নিয়ে র‌্যাগিং করেন। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত না হলে তাদের ভয় দেখিয়ে রাত ৯টায় পুনরায় ডেকে নেওয়া হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত র‌্যাগিং চলে। অভিযোগ রয়েছে, র‌্যাগিং চলাকালে অন্তত ১০ জন ইমিডিয়েট সিনিয়র সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন-নূর মোহাম্মদ পরশ (সিআর), অনিক, নাজ, শ্রাবণ, অনুপম, লিমন, জয়, রিয়াদ, প্রীতম ও রাফি। র‌্যাগিং চলাকালে শরিফুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা ওঠে বলে সহপাঠীরা জানান। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু আজ আমাদের সেই স্বপ্নের জায়গাটিই যেন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ১৪তম ব্যাচের কিছু ভাই র‌্যাগিংয়ের নামে আমাদের এক বন্ধুকে এমনভাবে নির্যাতন করেছেন যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।’ তারা আরও বলেন, ‘আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, কারও হাতে নির্যাতিত বা অপমানিত হতে নয়। একজন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের নামে অজ্ঞান করে হাসপাতালে নিতে হলে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। পরিবার থেকে দূরে এসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি মনে করি। কিন্তু যদি এই ক্যাম্পাসেই আমাদের জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করব?’ এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঘটনার সময় নিজের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে ১৪তম ব্যাচের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) পরশ বলেন, ‘আমি সেখানে পরে গিয়েছিলাম। ছেলেটা আগে থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’ তবে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছেলেটার আগে থেকেই পেটের সমস্যা ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমিও রাতে এসেছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। ওর বাবা আসবে। যদি র‌্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ লিখিত আসে তাহলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আমি হাসপাতালে দেখতে যাব। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

Top