‎লাইসেন্সবিহীন অনলাইন বাণিজ্যের আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: ‘দিগন্ত সুজ’ ও সাইবার জিম্মিদশার নতুন ফাঁদ - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
‎লাইসেন্সবিহীন অনলাইন বাণিজ্যের আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: ‘দিগন্ত সুজ’ ও সাইবার জিম্মিদশার নতুন ফাঁ... প্রকাশের আগেই প্রাথমিক বৃত্তির ফল ‘ফাঁস’, তদন্ত কমিটি গঠন বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ এবারও বেশি সবুজ বসতি’ গড়ে তুলতে সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে গাছ লাগান দেশে ধানের বাম্পার ফলন,কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা ফিরল বরিশাল নগরীর মহসিন মার্কেটের একতরফা কমিটি গঠন; ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রতিবাদ ; সমঝোতার নির্দেশ এম পি সর... গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারিছুর কারামুক্ত স্থানীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট

‎লাইসেন্সবিহীন অনলাইন বাণিজ্যের আড়ালে কোটি টাকার প্রতারণা: ‘দিগন্ত সুজ’ ও সাইবার জিম্মিদশার নতুন ফাঁদ



‎বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

‎ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় দেশের ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করছে, ঠিক তখনই কিছু ভুঁইফোড় ও লাইসেন্সবিহীন চক্র একে হাতিয়ার করে মেতে উঠেছে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায়। কোনো বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নেই, নেই কোনো স্থায়ী শোরুম বা দোকান—অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দিয়ে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলছে একশ্রেণীর অসাধু চক্র।

‎সম্প্রতি এমন একটি চক্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে, যার মূল হোতা ‘দিগন্ত সুজ’ নামক একটি অনলাইন জুতা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুণগত মানহীন জুতা বিক্রি, অর্ডারের পর পণ্য না দেওয়া এবং পরবর্তীতে গ্রাহকদের ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং অনলাইন মিডিয়াগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই চক্রের ভয়ঙ্কর সব অপকর্মের চিত্র:নামী-দামী ব্র্যান্ডের জুতার ছবি ও ভিডিও নকল করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চটকদার স্পন্সরড বিজ্ঞাপন চালায় ‘দিগন্ত সুজ’। বিজ্ঞাপনের সাথে বাস্তব পণ্যের আকাশ-পাতাল তফাত থাকে। গ্রাহক পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের, এমনকি ব্যবহারের অনুপযোগী।
‎৩. রিটার্ন বা রিফান্ডে অস্বীকৃতি: ছেঁড়া বা ভুল সাইজের জুতা ফেরত দিতে গেলে বা টাকা রিফান্ড চাইলে গ্রাহকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়।

‎অনলাইন মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দিগন্ত সুজ’ শুধুমাত্র একটি সাধারণ প্রতারক চক্র নয়, এটি এখন একটি সংঘবদ্ধ **সাইবার অপরাধী চক্র**। পণ্য কিনতে গিয়ে গ্রাহকরা যখন তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর প্রদান করেন, তখন সেই ব্যক্তিগত তথ্য (Data) ব্যবহার করে শুরু হয় ডিজিটাল অপরাধ।

‎কোনো গ্রাহক যদি ফেসবুক পেজে বা গ্রুপে প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, তখন এই চক্রটি:

‎গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ফেক আইডি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক হেনস্তা করছে।
‎ইনবক্সে বা ফোনে হুমকি-ধমকি দিয়ে গ্রাহককে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করছে।
‎তথ্য জিম্মি করে উল্টো সাইবার ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা দাবি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।


‎আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দিগন্ত সুজ’ এর এই কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত একাধিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই চক্রের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে:

‎ এই আইনের ৪৫ ও ৫৩ ধারা অনুযায়ী, প্রতিশ্রুত পণ্য যথাযথভাবে সরবরাহ না করা, প্রতারণা করা এবং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থ ও স্বাস্থ্যহানি ঘটানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
‎সাইবার নিরাপত্তা আইন (Cyber Security Act)গ্রাহকদের তথ্য চুরি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হ্যাকিং, ভীতি প্রদর্শন এবং সাইবার বুলিং বা ব্ল্যাকমেইলিং এই আইনের অধীনে সরাসরি আমলযোগ্য অপরাধ। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জিম্মি করার অপরাধে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
‎ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা, ২০২১:বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো অননুমোদিত বা লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবে না। প্রদর্শিত পণ্যের হুবহু মান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও ‘দিগন্ত সুজ’ তার তোয়াক্কাই করছে না।

‎অনলাইন মিডিয়ার একাধিক প্রতিবেদনে এই চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে বলা হচ্ছে, এখনই যদি ‘দিগন্ত সুজ’ এর মতো ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ই-কমার্সের ওপর থেকে আস্থা সম্পূর্ণ উঠে যাবে।

‎সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি ভুক্তভোগীদের আকুল আবেদন—এই চক্রের ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের উৎস সন্ধান করে এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে এমন সাইবার জিম্মিদশার শিকার হতে না হয়।


Top